দুই মামলার সাজা মাথায় নিয়ে অবশেষে খাঁচায় পলাতক হাসিনা

প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৯

সাজা হওয়ার পর থেকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে গা ঢাকা দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না। অবশেষে দুই মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হাসিনা আক্তারকে (৪০) গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে সিএমপির কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

রোববার (১২ জুলাই) ভোরের আলো যখন কেবল ফুটতে শুরু করেছে, তখনই নগরের পাঁচলাইশ থানা এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে আইনের আওতায় আনা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত হাসিনা আক্তার নগরের অভিজাত এলাকা কাজীর দেউড়ি ব্যাটারি গলি সংভাসী মো. বেলাল হোসেনের স্ত্রী।

যেভাবে চলতো লুকোচুরি
অর্থনৈতিক লেনদেন আর চেকের আইনি মারপ্যাঁচে জড়িয়ে পড়েছিলেন হাসিনা আক্তার।

নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের অধীনে দায়ের হওয়া দুটি ভিন্ন মামলায় বিজ্ঞ আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড প্রদান করেন।

সাজা ঘোষণার পর থেকেই নিজেকে আড়াল করে আসছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন হয়তো সুচতুর আত্মগোপনে কেটে যাবে দিন। কিন্তু পুলিশ প্রশাসনের নিরলস নজরদারি যে তার পিছু ছাড়েনি, তা টের পেলেন রোববার ভোরে।

সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এটি পুলিশের একটি সফল ও পরিকল্পিত অভিযান ছিল।

আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই এই সাজাপ্রাপ্ত আসামির গতিবিধির ওপর নজর রাখছিলাম। রোববার ভোরে আমাদের কাছে একটি সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদ আসে যে, তিনি পাঁচলাইশ এলাকায় অবস্থান করছেন।

কালক্ষেপণ না করে কোতোয়ালী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল সেখানে অভিযান চালায় এবং দুটি সাজা পরোয়ানাভুক্ত আসামি হাসিনা আক্তারকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাসিনা আক্তারের বিরুদ্ধে দুটি থানায় আদালতের সাজা পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট জারি ছিল।

এর একটি হলো পাঁচলাইশ থানার অধীনে সিআর মামলায় নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (এনআই) অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় আদালত তাকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

অপরটি একই ধারায় (এনআই অ্যাক্ট) আনোয়ারা থানার সিআর মামলায় তাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সর্বমোট ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ মাথায় নিয়ে ঘুরছিলেন এই নারী।

গ্রেপ্তারের পরপরই পুলিশি হেফাজতে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ রোববার দুপুরে হাসিনা আক্তারকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

সচেতন মহলের মতে, অপরাধ করে বা আদালতের সাজা মাথায় নিয়ে পালিয়ে থাকা যে অসম্ভব, এই গ্রেপ্তার তারই এক জ্বলন্ত প্রমাণ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি