ইতিহাসের পাতায় ৩৯ বছরের তরুণ মেসি: অধিনায়ক হিসেবে অনন্য বিশ্বরেকর্ড

২০২৬ বিশ্বকাপে টানা ৭ জয়ের মহাকাব্য

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:২০

বুধবারের রাতটি ফুটবলপ্রেমীরা হয়তো দীর্ঘদিন মনে রাখবেন। আরও একটি রোমাঞ্চকর রাত, আরও একটি অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন এবং আরও একবার আর্জেন্টিনার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াকু সেমিফাইনালে ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে গেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এই জয়ের ফলে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এবার তাদের মুখোমুখি হতে হবে ইউরোপিয়ান পরাশক্তি স্পেনের।

ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৫৫ মিনিটে প্রথম আঘাত হানে ইংল্যান্ড। অ্যান্থনি গর্ডনের চমৎকার গোলে লিড নেয় ইংলিশরা।

গোল খেয়ে ম্যাচ থেকে একপ্রকার ছিটকে পড়ার উপক্রম হয়েছিল আর্জেন্টিনার। কিন্তু আলবিসেলেস্তেরা যে সহজে হার মানার পাত্র নয়, তা তারা প্রমাণ করল ম্যাচের শেষ ভাগে।

৮৫ মিনিটে আর্জেন্টাইন শিবিরে স্বস্তি ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। তাঁর চোখধাঁধানো গোলে সমতায় ফেরে দল। যখন ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিট) জাদুকরী এক গোল করে বসেন লাউতারো মার্তিনেজ।

তাঁর এই জয়সূচক গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনার কোটি সমর্থক, নিশ্চিত হয় ফাইনালের টিকিট।

অধিনায়ক মেসির অনন্য বিশ্বরেকর্ড

এই ম্যাচটি লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে যোগ করেছে এক সোনালী পালক। ৩৯ বছর বয়সে এসেও মাঠের ভেতরে ও বাইরে সমানভাবে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন এই মহাতারকা।

ফুটবল ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে নিয়ে যাওয়ার অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তিনি।

এর আগে ২০১৪ ও ২০২২ সালেও মেসির নেতৃত্বেই ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক পথচলা:

  • ২০১৪ বিশ্বকাপ: ৭ ম্যাচের ৫টিতে জয়, ১টি ড্র এবং ১টি হারে রানার্সআপ।

  • ২০১৮ বিশ্বকাপ: ৪ ম্যাচের ১টিতে জয়, ১টি ড্র এবং ২টি হারে শেষ ষোলো থেকে বিদায়।

  • ২০২২ বিশ্বকাপ: ৭ ম্যাচের ৪টিতে জয়, ২টি ড্র এবং ১টি হারে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন (ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টিতে জয়)।

  • ২০২৬ বিশ্বকাপ: এখন পর্যন্ত খেলা ৭টি ম্যাচের সবকটিতেই জয়!

ম্যারাডোনার কীর্তিতে ভাগ বসালেন মেসি

টানা দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার ঘটনা আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে এর আগে মোটে একবারই ঘটেছিল। ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার নেতৃত্বে টানা দুটি ফাইনাল খেলেছিল আকাশী-সাদারা।

এবার ইংল্যান্ডকে হারিয়ে প্রয়াত ম্যারাডোনার সেই অবিস্মরণীয় কীর্তিতে ভাগ বসালেন মেসি।

বিশ্বফুটবলের ইতিহাসে অধিনায়ক হিসেবে টানা দুইবার দলকে ফাইনালে তোলার নজির অবশ্য আরও কয়েকজনের আছে। তবে একেক জনের ভাগ্য ছিল একেক রকম:

অধিনায়ক ও দল ফাইনালের বছর ফলাফল
কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে (পশ্চিম জার্মানি) ১৯৮২ ও ১৯৮৬ দুইবারই রানার্সআপ
দুঙ্গা (ব্রাজিল) ১৯৯৪ ও ১৯৯৮ ১৯৯৪ সালে চ্যাম্পিয়ন, ১৯৯৮ সালে রানার্সআপ
উগো লরিস (ফ্রান্স) ২০১৮ ও ২০২২ ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন, ২০২২ সালে রানার্সআপ
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) ২০২২ ও ২০২৬ ২০২২ সালে চ্যাম্পিয়ন, ২০২৬ সালে…?

২০২২ সালে লুসাইল স্টেডিয়ামে ফ্রান্সকে পেনাল্টি শুটআউটে হারিয়ে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছিলেন মেসি। এবার ২০২৬ সালের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হচ্ছে তাঁর দল।

এবার কি ব্যাক-টু-ব্যাক বিশ্বকাপ জিতে মেসি তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব আরও উঁচুতে নিয়ে যাবেন, নাকি স্প্যানিশ আর্মাডাদের জয়ে থামবে আর্জেন্টিনার এই অশ্বমেধের ঘোড়া?

উত্তর মিলবে ফাইনালের মহারণেই।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি