অজ্ঞাত গাড়ির চাকার নিচে নিমেষেই পিষে গেল ইমনের প্রাণ!

প্রকাশিত: ১৯ জুলাই, ২০২৬ ১৫:২৩

উথাল-পাথাল সমুদ্রের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা সীতাকুণ্ডের জাহাজ ভাঙা শিল্পে এসেছিলেন নিজের ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে।

মাত্র বিশ বছরের এক তরুণ, যার চোখে ছিল পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর এক বুক স্বপ্ন। কিন্তু এক লহমার এক নির্মম ঝড় এসে থামিয়ে দিল সেই জীবনের স্পন্দন, পিষে দিল সব স্বপ্নকে।

আজ রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ঠিক ৮টায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা বাইপাস রয়েল গেট এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মো. ইমন (২০) নামের এক তরুণ জাহাজ ভাঙা শ্রমিক।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও নিজের কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন ইমন।

সীতাকুণ্ডের বড় কুমিরা এলাকায় একটি শিপব্রেকিং ইয়ার্ডে (জাহাজ ভাঙা শিল্প) শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

সকাল ৮টার দিকে কুমিরা বাইপাস রয়েল গেট এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন তিনি। ঠিক তখনই পেছন থেকে ধেয়ে আসা একটি দ্রুতগামী অজ্ঞাত গাড়ি তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে মিলিয়ে যায়।

রক্তের স্রোতে ভেসে যায় ইমনের স্বপ্নীল চোখজোড়া। ঘটনাস্থলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই তরুণ।

নিহত ইমন ফিরোজপুরের মঠবাড়িয়া এলাকার মো. সালামের ছেলে। দূর প্রবাসে (চট্টগ্রামে) ছেলের এমন অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুর খবর যখন মঠবাড়িয়ায় পৌঁছায়, তখন পরিবারটিতে নেমে আসে এক অমাবস্যার অন্ধকার।

ইমনের উপার্জনে যে পরিবারটি সুদিনের স্বপ্ন দেখছিল, তাদের আর্তনাদে এখন ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার পুলিশ। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

এই বিষয়ে বারআউলিয়া হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিল্টন মণ্ডল গণমাধ্যমকে জানান, মো. ইমন সীতাকুণ্ডের বড় কুমিরা এলাকায় জাহাজ ভাঙা শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সকালে রাস্তা পারাপারের সময় অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাকে ধাক্কা দিলে তিনি মারা যান। আমরা ইতিমধ্যে মরদেহ উদ্ধার করেছি।

পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ হস্তান্তরের জন্য লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

তাদের মানবিক আবেদনের ভিত্তিতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ হস্তান্তর করার প্রক্রিয়া চলছে।

তবে এই মর্মান্তিক ঘটনায় অজ্ঞাত গাড়ি ও চালককে শনাক্ত করতে আমাদের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ইমনের মরদেহ তার নিজ গ্রাম ফিরোজপুরে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে, যেখানে অপেক্ষায় আছেন তার শোকাতুর বাবা-মা।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি