মহাসড়কের পাশে বসেছিল চোরাই অটোরিকশার হাট, ছদ্মবেশী অভিযানে পুলিশের বাজিমাত

গ্রেপ্তার ৩, উদ্ধার ৪ অটোরিকশা

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৫৬

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওপর দিয়ে হাজারো যানবাহনের ব্যস্ত আনাগোনা। বাহুলী এলাকার ‘ফাতেমা মোটরস’ এর সামনে তখন কয়েকজন যুবকের আনাগোনা দেখে বোঝার উপায় ছিল না, সেখানে আড়ালে চলছে এক দুর্ধর্ষ অপরাধের কারবার।

সাধারণ কেনাবেচার ছলে আসলে বসানো হয়েছিল চোরাই সিএনজি চালিত অটোরিকশার গোপন হাট।

তবে সেই সুযোগ আর বেশি সময় স্থায়ী হতে দেয়নি পটিয়া থানা পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এক নিমেষে চালানো সারপ্রাইজ অভিযানে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছে আন্তঃজেলা চোর চক্রের তিন সক্রিয় সদস্য।

রবিবার (২ আগস্ট) দুপুর দেড়টার দিকে পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানে ধরা পড়ে চক্রের তিন মূল হোতা-মো. নুরুল আমিন (৩০), উজ্জ্বল মিয়া (৩৬) এবং রিমন আহমদ (২৭)।

শুধু তাদের গ্রেপ্তারই নয়, ঘটনাস্থল থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে চুরি যাওয়া চারটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল নিশ্চিত করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কৌশলে অটোরিকশা চুরি করে পটিয়ার মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিল।

রোববার গোপন সংবাদ পাওয়া মাত্রই পটিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল অবস্থান নেয় ফাতেমা মোটরসের সামনে। অপরাধীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অকপটে স্বীকার করেছে এক ভয়াবহ তথ্য-তারা কোনো সাধারণ চোর নয়, বরং দেশের একাধিক জেলায় বিস্তৃত এক বিশাল আন্তঃজেলা যানবাহন চুরি সিন্ডিকেটের সক্রিয় চালিকাশক্তি।

বিভিন্ন স্থান থেকে অটোরিকশা হাইজ্যাক বা চুরি করে সেগুলোর ভুয়া কাগজপত্র ও নম্বর প্লেট বদলে বিক্রি করাই ছিল তাদের মূল কাজ।

এ ঘটনায় পটিয়া থানায় ইতোমধ্যে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য ধরে এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে এবং পেছনে থাকা বাকি সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি