সিসিটিভি ক্যামেরায় স্পষ্ট ধরা পড়েছিল পাঁচ অস্ত্রধারীর মুখ, যাদের তিনটি পিস্তল ও দুটি শটগান থেকে বের হওয়া গুলিতে প্রকাশ্য দিবালোকে নিভে যায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুল হক চৌধুরীর জীবন।
আলোড়ন সৃষ্টিকারী সেই যুবদল নেতা হত্যা মামলার অন্যতম মূল দুই আসামিকে উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন-মো. দিদার আলম ও আবছার মিয়া। রোববার চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে জেলা পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে।
পুলিশের দাবি, তাঁরা দুজনই প্রকাশ্যে সংঘটিত ওই হত্যায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন এবং সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হানের সক্রিয় অনুসারী।
আজ সোমবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সীতাকুণ্ডে অভিযান চালিয়ে যুবদল নেতা মাসুদ হত্যার সরাসরি অস্ত্রধারী দুই আসামি দিদার ও আবছারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল।
গ্রেফতারকৃত দিদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৩টি ও আবছারের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে।
কী কারণে ও কার আদেশে মাসুদকে হত্যা করা হলো-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।
তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই মাসুদকে পরিকল্পনা অনুযায়ী হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
এর আগে গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে নৃশংসভাবে খুন হন মাসুদুল হক চৌধুরী। তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী ছিলেন রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান।
স্বজনরা জানান, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মাসুদ।
ঘটনার দুদিন পর, ১৫ জুন নিহত ব্যক্তির বড় ভাই বাদী হয়ে রাউজান থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
মামলার প্রধান আসামিদের তালিকায় রয়েছেন বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান এবং ধামা ইলিয়াস (যাকে পুলিশ আগেই গ্রেফতার করেছে)।
এজাহারের বর্ণনা ও সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, মাসুদের দিকে প্রথম গুলি ছোঁড়েন ইলিয়াস ও দিদারুল। পরবর্তীতে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে এসে আরও কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জেলা পুলিশের আরও কিছু সাম্প্রতিক সফল অভিযানের তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, গত ১০ জুলাই হাটহাজারীর মেখলে ঘটে যাওয়া নুরুল আজিম হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী দিদার আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার কাছ থেকে কিরিচ ও রামদা উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া, গত ৩০ জুলাই মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে নাজিম নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার মামলায় মো. বোরহান ও রনি নামের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

