ক্ষমতাচ্যুত ও ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যেকোনো ধরনের বক্তব্য, সংবাদ বা প্রচারণা প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে গণমাধ্যমকে আবারও কঠোরভাবে সতর্ক করেছে সরকার।
সরকারের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যদি কোনো গণমাধ্যম বা ব্যক্তি তার বক্তব্য বা প্রচারণামূলক খবর প্রকাশ করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্টের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সরকারের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর স্ট্র্যাটেজি এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আগামী ৫ আগস্ট সরকার পতনের বর্ষপূর্তিতে শেখ হাসিনা ভাষণ দিতে পারেন-সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন গুঞ্জন ও খবরের দিকে তথ্য উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
জবাবে তিনি বলেন, তার বক্তব্য প্রচার করা নিয়ে এর আগেও আমরা একটি ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে পত্রিকা ও গণমাধ্যমগুলোকে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি।
তিনি আবার বক্তৃতা করবেন-এই ধরনের খবর যদি কেউ প্রকাশ বা প্রচার করে, তবে তা সরাসরি আদালতের রায়ের চরম অবমাননা হবে।
এমনটি করা হলে আমরা অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেব। প্রথমবার আমরা সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছিলাম, কিন্তু এবার কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বশীলতার ওপর জোর দিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি আহ্বান জানাব, এমন কাজ করা থেকে সবাই যেন বিরত থাকেন। কারণ এর পেছনে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, সরকার কিন্তু কোনো আদালত নয়। কিন্তু আদালতের রায় ও নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা নির্বাহী বিভাগ হিসেবে সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
বক্তব্য প্রচারের আইনি পথ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, আদালতের এই নির্দেশনায় যদি কেউ সংক্ষুব্ধ হন বা মনে করেন যে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ভুল হচ্ছে, তবে তার জন্য আইনি পথ খোলা রয়েছে।
তিনি চাইলে আদালতে গিয়ে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আদালত থেকে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত না আসছে, ততক্ষণ এই নির্দেশনা মেনে চলা দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকের জন্য আইনি ও নৈতিক কর্তব্য।
তথ্য উপদেষ্টা অত্যন্ত পরিষ্কার ভাষায় পুনর্ব্যক্ত করেন, সরকার হচ্ছে মূলত একটি এক্সিকিউটিভ বডি বা নির্বাহী সংস্থা।
আদালতের সিদ্ধান্ত ঠিকমতো বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা দেখাই সরকারের কাজ। কেউ আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

