সিলেটে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: এক নিমিষেই ৯ প্রাণ শেষ!

প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩৭

শুক্রবারের ভোরের কুয়াশা ও আলতো আলোয় শান্ত সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি একমুহূর্তেই বদলে গেল আর্তনাদ আর রক্তে রাঙানো এক ট্র্যাজেডিতে।

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার খাসিকাপন (দয়ামীর) এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘বেঙ্গল পরিবহন’ ও সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ‘ইউনিক পরিবহন’ এর একটি স্লিপার বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেছে শিশুসহ অন্তত ৯ জনের।

এই বিভীষিকাময় দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো খাসিকাপন এলাকা।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বেঙ্গল পরিবহনের বাসটির ধাক্কায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের গভীর খাদে পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।

সংঘর্ষের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, মুহূর্তের মধ্যেই স্বজনদের সাথে কুশল বিনিময়ের অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলোর চিৎকার ও আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। স্থানটি রূপ নেয় এক মৃত্যুপুরীতে।

ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের আটজন যাত্রী মারা যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে মারা যায় এক অবোধ শিশু।

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় নিহত ও অধিকাংশ আহতের সবাই ছিলেন ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।

দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাসটির দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অংশ জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে রক্তাক্ত জামাকাপড়, জুতো আর যাত্রীদের পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখা ব্যাগ।

স্থানীয়রা আকস্মিক এই দৃশ্য দেখে স্তম্ভিত হয়ে পড়েন। বেগতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে মুহূর্তের মধ্যেই তারা উদ্ধার কাজে হাত বাড়ান।

পরবর্তীতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সহায়তায় নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এখন স্বজনদের ভিড় ও আহাজারি। প্রিয় মানুষটি বেঁচে আছে নাকি চিরতরে হারিয়ে গেছে-সেই খবরটুকু জানার আশায় কান কান্নায় ভেঙে পড়ছেন অনেকেই।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, ঢাকা থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহন ও সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ইউনিক পরিবহনের বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

বেপরোয়া গতির কারণে ইউনিক পরিবহনের বাসটি ছিটকে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এ পর্যন্ত শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং অন্তত ২৫ জন আহতকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় অধিবাসীরা এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনার জন্য বেঙ্গল পরিবহনের বাসটির বেপরোয়া গতি ও ভুল লেনে চলে আসাকেই দায়ী করছেন।

একটি মুহূর্তের অসাবধানতা আর গতির উন্মাদনা কতগুলো পরিবারের হাসিমুখ চিরতরে মুছে দিল-খাসিকাপনের দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি যেন এখন সেই নীরব প্রশ্নই তুলে ধরেছে।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, নিহত ও চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি