ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বড় খেলোয়াড়দের আলাদা করে চেনা যায় কঠিন মুহূর্তে। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারার হতাশা অনেকের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিতে পারে। কিন্তু লিওনেল মেসি যেন বারবার প্রমাণ করেন, তাঁর গল্পটা অন্যরকম।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়ের রাতে সেই গল্পেরই আরেকটি অধ্যায় লেখা হলো। পেনাল্টি থেকে সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তবে সেই আক্ষেপ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি।
ম্যাচের পরের অংশে একাই দুই গোল করে দলকে জয় এনে দেওয়ার পাশাপাশি নিজের নামও তুলে নিলেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের নতুন উচ্চতায়।
আরও পড়ুন
ম্যাচের প্রথম গোলেই মেসি ছুঁয়ে ফেলেন ইতিহাস। এরপর দ্বিতীয় গোলটি তাঁকে পৌঁছে দেয় একক শিখরে।
জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ম্যাচ শেষে তাঁর বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৮-তে।
ক্রীড়ামোদী বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে মেসির শ্রেষ্ঠত্ব শুধু গোলসংখ্যায় নয়; বরং মানসিক দৃঢ়তায়ও। একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করার পর অনেক ফুটবলার নিজেদের ছন্দ হারিয়ে ফেলেন।
কিন্তু মেসি সেই ব্যর্থতাকে শক্তিতে রূপান্তর করেছেন। মাঠে তাঁর চলাফেরা, আক্রমণ সাজানো এবং সুযোগ তৈরি করার মানসিকতা কখনোই কমে যায়নি। বরং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন।
ম্যাচ শেষে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার হাতে নিয়ে মেসিও যেন সেই বাস্তবতার কথাই বললেন।
“এটা আসলে অভূতপূর্ব মুহূর্ত। আজকে আমি পেনাল্টি পেয়েছিলাম এবং দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল; কিন্তু যদি পেনাল্টি থেকে গোল পেতাম, তাহলে আমি হয়তো পরের দুটি গোল পেতাম না।
আমরা আসলে কেউ জানি না, কি হতো! কিন্তু আমি দলের ফলাফলে খুশি এবং দলের পারফরম্যান্সেও।”
মেসির এই মন্তব্যে যেমন বিনয় আছে, তেমনি আছে ফুটবলের অনিশ্চয়তার প্রতি শ্রদ্ধা। কখনো একটি মিসই নতুন গল্পের জন্ম দেয়। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচটিও ঠিক তেমনই।
রাতটি শুরু হয়েছিল আক্ষেপ দিয়ে, শেষ হয়েছে ইতিহাস দিয়ে। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন একজনই—লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একবার তিনি মনে করিয়ে দিলেন, বড় খেলোয়াড়দের প্রকৃত পরিচয় পাওয়া যায় তাঁরা কীভাবে ব্যর্থতা থেকে ফিরে আসেন, সেই গল্পে। আর সেই গল্পের অন্যতম সেরা লেখক এখনো মেসিই।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

