মিরসরাইয়ে পরিত্যক্ত গার্ডরুমে অর্ধবসা লাশ: কে এই অজ্ঞাত যুবক?

পরিচয় খুঁজছে পুলিশ

প্রকাশিত: ০৭ জুলাই, ২০২৬ ১৯:৫৭

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই সগৌরবে দাঁড়িয়ে ছিল কারখানাটি। তবে সেখানে এখন আর কোনো কোলাহল নেই, দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত।

আর সেই নির্জন কারখানার একটি অন্ধকার গার্ডরুমেই যেন থমকে গেল ৩৫ বছর বয়সী এক অচেনা যুবকের জীবন।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের মির্জাপুর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বিস্কুট কারখানা থেকে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উদ্ধারের সময় মরদেহটি ঘরের ভেতরে অদ্ভুতভাবে অর্ধবসা অবস্থায় ছিল, যা স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে মির্জাপুর এলাকায় পুরাতন মিরসরাই পেট্রোল পাম্পের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত ওই পরিত্যক্ত বিস্কুট কারখানার দিকে চোখ পড়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার।

গার্ডরুমের ভেতরে তাকাতেই তারা দেখতে পান এক যুবকের নিথর দেহ সেখানে পড়ে আছে।

খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়রা মিরসরাই থানা-পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের একটি দল।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ জানায়, যুবকের বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর। তবে তার পরনে কী ছিল বা শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন আছে কি না, সে বিষয়ে তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

তদন্তে পুলিশ মরদেহ উদ্ধারের পর আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ।

মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “পুরাতন মিরসরাই পেট্রোল পাম্পের সামনে অবস্থিত ওই পরিত্যক্ত কারখানার ভেতর থেকে আমরা লাশটি উদ্ধার করেছি।

সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।”

ওসি ফরিদা ইয়াসমিন আরও জানান, নিহত যুবকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের একাধিক দল নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো ঘটনা, তা খতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেছে।

এদিকে মহাসড়কের পাশে এমন একটি পরিত্যক্ত জায়গায় যুবকের লাশ মেলায় এলাকায় নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে।

নির্জন এই স্থানটিকে অপরাধীরা কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিল কি না, সেই প্রশ্নও তুলছেন স্থানীয়রা।

কে এই যুবক? কোন বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে সে এই পরিত্যক্ত ঘরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল, নাকি অন্য কোথাও প্রাণ হারিয়ে সে এখানে এসে পৌঁছাল?

এমন শত প্রশ্নের উত্তর এখন লুকিয়ে আছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের টেবিলে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি