আমার মৃত্যু হবে একটা নারীর কারণে-ফেসবুক পোস্টের পর ইমনের মৃত্যু

প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৪৬

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হলো পোমরা ইউনিয়ন। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন নিরব ইমন (২৪) নামের এক তরুণ।

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে পোমরা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সাম তালুকদার বাড়ি থেকে পুলিশ তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।

নিহত ইমন ওই এলাকার মো. জহির আহমদের ছেলে। স্থানীয় রাজনীতির সূত্রে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকা এই তরুণ কিছুদিন ধরে বিদেশে গিয়ে নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্ন বুনছিলেন। কিন্তু এক বিকেলেই সব স্বপ্নের করুণ সমাপ্তি ঘটল।

মৃত্যুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি বার্তা দেন ইমন। যেখানে তিনি লেখেন, মানুষের মৃত্যু হয় কিছু কারণে অকারণে। কিন্তু আমার মৃত্যু হবে একটা নারীর কারণে, তার ফ্যামিলির কারণে।

অন্য আরেকটি পোস্টে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সম্পর্ক, মানসিক যন্ত্রণা এবং চরম হতাশার কথা ব্যক্ত করেছিলেন ইমন। সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবিও।

সেখানে তিনি কিছু মানুষের প্রতি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তবে আইনগতভাবে কিংবা স্বাধীন কোনো সূত্রে ওই অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ঘটনার সূচনা বেশ কিছুদিন আগে। গত ১৫ জুলাই উত্তর পোমরা মালিহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে ইমনের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা করার আবেদন জানান ওই শিক্ষার্থীর মা।

এরপর ২৪ জুলাই স্থানীয় স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজিম উদ্দীন তালুকদারের উপস্থিতিতে এক সামাজিক সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টির নিষ্পত্তি ঘটে। ইমন একটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ভবিষ্যতে আর কখনো ওই শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব, কটূক্তি বা হুমকি না দেওয়ার বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার প্রদান করেন।

পরিবারের সঙ্গে আপোসের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে হলেও, তরুণের মনে জমানো মানসিক চাপ হয়তো শেষ হয়নি।

ঘটনার সতত্য স্বীকার করে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন জানান, কিছুদিন আগে ইমনের নামে একটি ইভটিজিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল যা পরবর্তীতে সামাজিকভাবে আপোস-মীমাংসা করা হয়। প্রাথমিক আলামত দেখে এটিকে আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর আগে ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাস, তার মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার সামগ্রিক দিকগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সামাজিক চাপ, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন নাকি সম্পর্কের টানাপোড়েন-ঠিক কোন বিষয়টি একজন তরুণকে মৃত্যুর পথ বেছে নিতে বাধ্য করল, তা এখন তদন্তের বিষয়।

তবে প্রবাসের স্বপ্ন বুকে নিয়ে ঝরে যাওয়া এই তরুণের আকস্মিক বিদায় পুরো এলাকায় গভীর বিষাদের ছায়া ফেলেছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি