‘ময়না ছলাৎ ছলাৎ’ সুর স্তব্ধ করে তারাদের দেশে সংগীতশিল্পী স্বাগত দে

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৪৪

বাংলা লোকসংগীতের সোঁদা মাটির গন্ধে যে কয়েকজন শিল্পী নতুন প্রজন্মের হৃদয় জয় করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল।

লোকসংগীতের আঙিনায় গভীর শোকের ছায়া ফেলে চিরবিদায় নিলেন জনপ্রিয় ও গুণী সংগীতশিল্পী স্বাগত দে। তার এই আকস্মিক ও অসময়ের প্রয়াণে বাংলা গান এবং সংস্কৃতির অঙ্গনে এক বিশাল অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ আগস্ট, সোমবার। হঠাৎ করেই আকস্মিক সেরিব্রাল স্ট্রোকে আক্রান্ত হন স্বাগত দে।

পরিজন ও অনুরাগীদের উদ্বেগের মাঝে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা এবং অগণিত ভক্তের প্রার্থনা সত্ত্বেও তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে।

অবশেষে ৩ দিনের লড়াই শেষে, ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার এই সুরসাধক তার জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে তিনি পাড়ি জমান ওপারে।

স্বাগত দে ছিলেন সুরের এক অনন্য জাদুকর। তার মেধা ও গায়কির নিজস্বতায় তিনি দীর্ঘ সময় ধরে মুগ্ধ করে রেখেছিলেন সব বয়সের শ্রোতাদের।

কালজয়ী গান ‘সোনা বন্ধু রে’ কিংবা প্রাণবন্ত ‘ময়না ছলাৎ ছলাৎ’-তার কণ্ঠে এই গানগুলো যেন এক নতুন জীবন ও ভিন্ন মাত্রা পেয়েছিল।

ঐতিহ্যবাহী লোকগানকে আধুনিক সময়ের উপযোগী করে নতুন প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করার যে অসামান্য ক্ষমতা তার ছিল, তা তাকে বাংলা সংগীতের ইতিহাসে এক স্বতন্ত্র স্থানে বসিয়েছে।

স্বাগত দে’র মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে গভীর স্তব্ধতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভেসে যায় অনুরাগী, সহকর্মী ও স্মৃতিচারণকারীদের শোকবার্তায়।

প্রিয় শিল্পীর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে জনপ্রিয় গায়িকা জোজো লিখেছেন, তারাদের দেশে ভালো থেকো স্বাগতদা।

অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী তার আবেগঘন বার্তায় শৈশবের স্মৃতি উসকে দিয়ে শ্রদ্ধা জানান এই গুণী শিল্পীকে।

অন্যদিকে, সমসাময়িক লোকশিল্পী দেব চৌধুরী গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, স্বাগত দে’র এই অকাল প্রয়াণ আমাদের সমগ্র লোকসংগীতের জন্য এক বিরাট ও অপূরণীয় ক্ষতি।

মানুষ হিসেবে স্বাগত দে হয়তো আজ নশ্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে গেছেন, কিন্তু তার রেখে যাওয়া সুরের উত্তরাধিকার থেকে যাবে চিরকাল।

সুরের যে স্রোত তিনি তৈরি করে দিয়ে গেছেন, তা প্রবাহমান থাকবে কোটি কোটি সংগীতানুরাগীর হৃদয়ে। দেহাবসান হলেও, গানের ভেলায় চড়ে স্বাগত দে অমর হয়ে থাকবেন বাংলা লোকসংগীতের ইতিহাসে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি