নিবন্ধন নেই, সনদ নেই, তাও চেম্বার খুলে বসেছেন: সাতকানিয়ায় ৪ ভণ্ড ডাক্তারের কীর্তি উন্মোচন

প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৪২

জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগ এক তুড়িতেই সেরে যাবে-এমন চটকদার প্রলোভন দেখিয়ে সরল-সোজা মানুষের বিশ্বাস অর্জনের মাধ্যমে চলছিল রমরমা বাণিজ্য।

তবে শেষ রক্ষা আর হলো না। অবশেষে সচেতন গ্রামবাসীর বুদ্ধিমত্তায় উন্মোচিত হলো তাদের আসল মুখ।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসক পরিচয়ে অপচিকিৎসা ও অনুমোদনহীন ইউনানী ওষুধ বিক্রির সময় চার ভুয়া চিকিৎসককে হাতেনাতে আটক করেছেন স্থানীয় জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরে আটককৃতদের উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে সোপর্দ করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে চার ব্যক্তির একদল কেঁওচিয়ার পাড়া-মহল্লায় ঘুরে নিজেদের বহু বছরের অভিজ্ঞ ইউনানী চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।

বিভিন্ন মোড়ে ও বাড়িতে অস্থায়ী চেম্বার বসিয়ে তারা বিশেষ করে নারী, প্রবীণ এবং দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ শারীরিক সমস্যায় ভোগা রোগীদের নিশানা বানান। স্থায়ীভাবে রোগ নিরাময় হবে-এমন আশ্বাসে দেদারসে বিক্রি হতে থাকে তথাকথিত ইউনানী ওষুধ।

তবে তাদের বাকপটুতা ও অদ্ভুত আচরণে সন্দেহ জাগে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় যুবকের। উৎসুক জনতা তাদের চিকিৎসা সেবার সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র ও সরকারি অনুমোদিত মেডিকেল নিবন্ধনের তথ্য জানতে চাইলে তাদের মুখে আর কথা ফোটেনি।

কোনো ধরনের বৈধ কাগজপত্র বা স্বীকৃতি দেখাতে ব্যর্থ হলে স্থানীয়রা চারজনকেই আটক করেন এবং তৎক্ষণাৎ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যান।

উপজেলা প্রশাসনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে আসল চমকপ্রদ তথ্য। ভুয়া পরিচয়ে ইউনানী চিকিৎসার পসরা সাজিয়ে বসা এই ব্যক্তিরা কেউ-ই চিকিৎসাবিদ্যার ধার ধারেননি।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, আটক চারজনের কারও শিক্ষাগত যোগ্যতাই অষ্টম শ্রেণির গণ্ডি পেরোয়নি! মাত্র অষ্টম শ্রেণি পাস করেই তারা নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি বসিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ছিনিমিনি খেলে আসছিলেন।

আটককৃত চার অভিযুক্ত হলেন-জামালপুর সদর উপজেলার মুসলিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ ইসলাম, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ ইনসান এবং মোহাম্মদ আকিরুল ইসলাম।

এলাকাবাসীর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, অপচিকিৎসার এই চক্রটি গ্রামের অসহায় ও সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে নিঃস্ব করছিল।

একদিকে তারা চিকিৎসার নামে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়ে মানুষকে প্রতারিত করেছে, অন্যদিকে অনুমোদনহীন এসব অজ্ঞাত ওষুধ সেবন করিয়ে নিরীহ মানুষের স্বাস্থ্যকে ঠেলে দিয়েছে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে।

ভুয়া চিকিৎসকদের এই দৌরাত্ম্য বন্ধে নিয়মিত প্রশাসনিক অভিযান ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটক চারজনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, চিকিৎসকের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি