সামাজিক মর্যাদা, দেশের সর্বোচ্চ সরকারি চাকরি (বিসিএস) আর সম্মানের পেশা-কোনো কিছুই ঠেকাতে পারল না যৌতুকের ব্যাধি।
১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর মানসিক নির্যাতন ও হ্যারাসমেন্টের অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হতে হলো এক বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারকে।
শনিবার গভীর রাতে চট্টগ্রাম নগরীর শুলকবহর এলাকার কালা মুন্সি লেইনের একটি বাসা থেকে মো. মাকসুদুল হাসান নামের ওই কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ।
আরও পড়ুন
তিনি ৪৬তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য এবং বর্তমানে বরগুনার বেতাগী সরকারি কলেজের প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই মাকসুদুল হাসান তার স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন।
তবে স্ত্রীর পরিবার দাবিকৃত মোটা অঙ্কের এই অর্থ দিতে অপারগতা জানালে তার ওপর শুরু হয় চরম মানসিক চাপ ও নানা ধরনের হয়রানি।
দিনের পর দিন চলতে থাকা এই সয়ে যাওয়া কষ্ট যখন সীমালঙ্ঘন করে, তখন আর উপায় না দেখে আদালতের শরণাপন্ন হন ভুক্তভোগী তরুণী।
স্বামীর অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের আশায় তিনি যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৪ ধারায় আইনি পদক্ষেপ নেন। মামলার ভিত্তিতেই তদন্ত সাপেক্ষে মধ্যরাতে এই অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, যৌতুক মামলায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই শুলকবহরের কালা মুন্সি লেইনের বাসা থেকে আসামি মাকসুদুল হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
একজন উচ্চশিক্ষিত ও বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তার এমন কাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
মেধা ও যোগ্যতায় বিসিএস পার করলেও মানসিকতায় যৌতুকের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্ত হতে না পারার এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

