প্রকৃতির কোলঘেঁষা বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত রবিবার (৯ আগস্ট) রূপ নিয়েছিল এক বিশাল জনসমুদ্রে।
ঝাউবীথি আর উত্তাল সাগরের সান্নিধ্যে অনুষ্ঠিত এই বিশাল জনসভায় ভেসে এসেছে এক নতুন বাংলাদেশ ও নতুন উন্নয়ন দর্শনের বার্তা।
প্রধান অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জনাকীর্ণ এই মহাসমাবেশে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বাঁশখালীর জন্য আলাদা করে আর দাবি-দাওয়া তুলে ধরার কোনো প্রয়োজন হবে না।
অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনীতির দর্শন সম্পূর্ণ নতুন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। বর্তমান সরকারের নতুন এই উন্নয়ন ভাবনায় দেশের শিশু, নারী, কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী সমাজের প্রত্যেকের চাহিদা সুনির্দিষ্টভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
জনসভায় উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনমান বদলে দেওয়ার মতো বেশ কয়েকটি বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি ঘোষণা করেন, সরকার খুব শিগগিরই প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষায় ‘কৃষি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার বিশাল কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
একই সাথে, আগামীর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়তে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সিংহভাগ বড় অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
বাঁশখালীর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘিরে পর্যটন খাতের সর্বোচ্চ ব্যবহারের বিষয়ে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক বলে আশ্বস্ত করেন অর্থমন্ত্রী।
একই সভায় বিশেষ আলোকপাত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাঁশখালী প্রাকৃতিকভাবেই এক অনন্য ও সমৃদ্ধ পর্যটন কেন্দ্র।
স্থানীয় অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড রক্ষা এবং লবণচাষিদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আশ্বাস দেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে দ্রুত এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা ও নির্দেশনা প্রদান করবেন।
এর পাশাপাশি রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও যেকোনো বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে বন্যাকবলিত এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সরকার একযোগে কাজ করে যাবে বলে অঙ্গীকার প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে স্থানীয় নেতা মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা বাঁশখালীর মূল সংকটগুলো তুলে ধরেন।
তিনি টেকসই ও স্থায়ী উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণ, স্থানীয় পর্যায়ে নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ তৈরি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা সুগম করার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি পেশ করেন।
উত্তাল সাগরের হাওয়া, সুবিশাল সৈকত আর হাজারো মানুষের ভিড়ে জমে ওঠা এই জনসভাটি কেবল বক্তব্য কিংবা স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং স্থানীয় সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে পরিণত হয়েছিল এক বাঁধভাঙা জনসমুদ্রে, যা বাঁশখালীর সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের এক নতুন চিত্র এঁকে দিয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

