সাতকানিয়ায় পুকুরের জলে নিভে গেল ছোট্ট বৃষ্টির জীবন

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১৮

নিত্যদিনের মতোই দুপুরের সোনালী রোদে পুকুরের ঠান্ডা জলে নেমেছিল ১২ বছরের ছোট্ট মেয়েটি। যে জলের সাথে ছিল তার প্রতিদিনের খেলা আর হাসি-খুশির সখ্য, সেই জলই যে অকালেই কেড়ে নেবে তার জীবন প্রদীপ-তা ভাবতেও পারেনি কেউ।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে পুকুরের পানিতে ডুবে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুর এমন করুণ বিদায়ে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকায়।

বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বারোদনা দুপি পাড়া এলাকায় এ ঘটে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি। নিহত শিশুটির নাম বৃষ্টি দাশ। সে স্থানীয় বাসিন্দা সজল দাশের মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন হওয়ায় পরিবারটির বাড়তি নজর ছিল বৃষ্টির প্রতি। তবে প্রতিদিনের অভ্যাসমতোই বুধবার দুপুর বারোটার দিকে বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে যায় সে। কিন্তু গোসলের একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পুকুরের জলরাশিতে তলিয়ে যায় শিশুটি।

কিছুক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়ে স্বজনদের সন্দেহ হয়। দ্রুত পুকুরে নেমে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে তাকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মুহূর্তের মধ্যেই আনন্দঘন বাড়িটি রূপ নেয় বুকফাটা আর্তনাদে। কোনো সময় নষ্ট না করে দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানিয়ে দেন, অবুঝ মেয়েটি আর বেঁচে নেই।

অশ্রুসজল চোখে বৃষ্টির চাচা হারাদন দাশ বলেন, প্রতিদিনের মতোই ও পুকুরে গোসল করতে গিয়েছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই যে সব শেষ হয়ে যাবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার জানান ও আর আমাদের মাঝে নেই।

বারোদনার যে দুপি পাড়ায় প্রতিদিন শিশুদের কোলাহলে মুখরিত থাকত, সেখানে এখন শুধুই নীরব স্তব্ধতা। চোখের জলে এক নিষ্পাপ শিশুকে বিদায় জানাচ্ছে পুরো গ্রাম।

এক ফোঁটা ‘বৃষ্টি’ যেমন শুষ্ক মাটিকে ভিজিয়ে দিয়ে যায়, তেমনি এই ছোট্ট ‘বৃষ্টি’র অকাল প্রস্থান পুরো গ্রামের মানুষের চোখে রেখে গেল নোনা জল।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি