চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা বাঁশখালীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একটি মশালমিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক কৌতুহল ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতের আঁধারে উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের চুনতিবাজার এলাকায় এই মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয় বলে দাবি করেছেন দলটির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ৩ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বাঁশখালীর চুনতিবাজার এলাকার জনশূন্য সড়কে কয়েক ডজন ব্যক্তি হাতে মশাল নিয়ে হঠাৎ মিছিল বের করেন।
রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা স্বত্বেও মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের দলীয় ও সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শোনা যায়। মিছিল শেষে সড়কটিতে দাঁড়িয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও দেন কয়েকজন।
দলটির স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে, চুনতিবাজারের ওই মিছিলে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ জন নেতা-কর্মী অংশ নিয়েছিলেন।
তবে শুধু চুনতিবাজারই নয়, এর আগের দিন বুধবার রাতে বাঁশখালী-আনোয়ারা সীমান্তের তৈলারদ্বীপ সেতুসংলগ্ন এলাকাতেও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের অন্ধকারে পরপর দুটি মিছিলের ঘটনায় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, চুনতিবাজারে মশালমিছিলের বিষয়টি পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জানা ছিল না।
তবে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি যাচাই করে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে আনোয়ারা-বাঁশখালী সীমানার তৈলারদ্বীপ সেতু এলাকাটি রাজনৈতিক ও স্থানীয় দাবির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সম্প্রতি গত জুলাইয়েও এই সেতুতে অতিরিক্ত টোল বাতিলের দাবিতে স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও ছাত্র-জনতা মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ মিছিল পরিচালনা করেছিল।
এর মাঝেই হঠাৎ রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলটির এমন ঝটিকা তৎপরতা পুরো এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও আলোচনা তৈরি করেছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

