লোহাগাড়া প্রতিনিধি : সাফল্য আকস্মিক অলৌকিক ঘটনা নয়। ধৈর্য আর অনুশাসনের এক নাম। সে কথাই আবার প্রমাণ করল পদুয়া এ সি এম উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃতী শিক্ষার্থী নাতাশা নাওরিন ফৌজিয়া।
সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মোট ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১১৮০ নম্বর পেয়ে লোহাগাড়া উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছে সে।
নাতাশার এই ঈর্ষণীয় অর্জন কেবল একটি পরীক্ষার মার্কশিটে সীমাবদ্ধ নেই। এটি হয়ে উঠেছে একটি পরিবারের স্বপ্নপূরণের দলিল, একটি বিদ্যাপীঠের গৌরবের স্মারক এবং পুরো উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নের এক শান্ত পরিবেশ থেকে নাতাশার এই জয়ের যাত্রা। তার এই ফলাফলের পেছনে লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের কঠোর অধ্যবসায় ও রুটিনমেপে পড়াশোনা করার মানসিকতা।
হঠাৎ করে পরীক্ষার আগে রাত জেগে পড়ার পক্ষপাতী সে কখনোই ছিল না। সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং আত্মবিশ্বাসই তাকে টেনে নিয়ে গেছে কাঙ্ক্ষিত চূড়ায়।
নাতাশার এই অর্জনে আনন্দের জোয়ার বইছে তার পরিবার ও সহপাঠীদের মাঝে। বাবা মো. সাইফুল্লাহ চৌধুরী এবং মা ফরিদা ইয়াছমিন-মেয়ের এমন সাফল্যে আবেগে আপ্লুত।
সন্তানের পড়াশোনার প্রতিটি পদক্ষেপে তাদের নীরব সমর্থন ও অকৃত্রিম ভালোবাসাই ছিল নাতাশার মূল শক্তি।
নাতাশার বাবা-মা জানান, আমরা তাকে কখনো নম্বরের পেছনে দৌড়াতে বলিনি, বলেছি সততা আর মনোযোগ দিয়ে শিখতে। আজ তার এই অর্জনে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।
পদুয়া এ সি এম উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানালেন, সাফল্য কোনো হঠাৎ পাওয়া উপহার নয়। এর পেছনে থাকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হওয়ার জেদ। নাতাশা সেই জেদ দিয়েই আজ এই উচ্চতায় পৌঁছেছে।
পদুয়া এ সি এম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা ও সঠিক মূল্যায়ন নাতাশার এই যাত্রাকে মসৃণ করেছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকমণ্ডলী জানান, নাতাশা কেবল একজন ভালো শিক্ষার্থীই নয়, অত্যন্ত বিনয়ী ও নিয়মনিষ্ঠ। তার এই সর্বভোচ্য নম্বর অর্জন বিদ্যালয়ের সম্মানকে আরও একধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের চত্বর থেকে শুরু করে লোহাগাড়ার সুশীল সমাজ-সবাই এখন নাতাশাকে নিয়ে গর্বিত।
তার এই ফলাফল প্রমাণ করে, সঠিক দিকনির্দেশনা আর নিজের ওপর বিশ্বাস থাকলে যেকোনো সাধারণ পরিবেশ থেকেও অসাধারণ সাফল্য ছিনিয়ে আনা সম্ভব।
নাতাশা নাওরিন ফৌজিয়ার যাত্রাপথ নতুন সূচনার দিগন্ত। ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে চায় সে। উচ্চশিক্ষায় নিজেকে সমৃদ্ধ করে দেশ, জাতি ও সমাজের কল্যাণে ভূমিকা রাখাই তার প্রধান স্বপ্ন।
একজন কিশোরীর এই পথচলা লোহাগাড়ার হাজারো তরুণ শিক্ষার্থীর চোখে আজ নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাচ্ছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি/রায়হান

