থানাকে সাধারণ মানুষের পরম আস্থার ঠিকানা হিসেবে গড়ে তুলতে এবং পেশাদারিত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম আজ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় বার্ষিক/বিশেষ পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার সার্বিক চিত্র নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করেন।
পরিদর্শনকালে রেঞ্জ ডিআইজি মহোদয় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন ও প্রবণতা, মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র খতিয়ে দেখেন।
মাদকের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
মতবিনিময় সভায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও সক্রিয়, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার আহ্বান জানান ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।
মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেবল খুচরা কারবারি নয়-মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
নারী, শিশু ও সাধারণ মানুষের জন্য স্পর্শকাতর পুলিশিং
পুলিশি সেবায় মানবিক আচরণের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে ডিআইজি বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে হতে হবে পরম সংবেদনশীল ও মানবিক। থানায় আগত ভুক্তভোগী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সর্বদা সৌজন্যপূর্ণ আচরণ করতে হবে এবং তাদের দ্রুত সেবা দেওয়া নিশ্চিত করা পুলিশের মৌলিক দায়িত্ব।
সততা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ বজায় রেখে জনগণের আস্থা অর্জনের মধ্য দিয়েই প্রকৃত ‘জনবান্ধব পুলিশিং’ গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ সুপারের দৃঢ় অঙ্গীকার
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার সভায় জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এবং প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধানে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে। মাদক, কিশোর অপরাধ, চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল মামলায় দ্রুগ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে পুলিশি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
মাঠপর্যায়ের পুলিশিং শক্তিশালী করার নির্দেশনা
সভায় জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জদের নিজ নিজ এলাকার অপরাধ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা, বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার এবং নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি সেবামুখী পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়।
পরিদর্শন শেষে ডিআইজি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সকল সদস্যকে নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

