তেলাপোকা-ইঁদুরের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন: জরিমানা গুণল ‘অমিত ফুড প্রোডাক্টস’

প্রকাশিত: ১৭ জুন, ২০২৬ ২১:৪১

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন এবং সরকারি বিধিবিধান লঙ্ঘনের দায়ে চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলীতে অবস্থিত ‘অমিত ফুড প্রোডাক্টস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একই অভিযানে সরকারি কাজে সহযোগিতা না করে পালিয়ে যাওয়ায় ‘কনকা ড্রিংকিং ওয়াটার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আক্তার কণার নেতৃত্বে পাহাড়তলী এলাকায় পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযানকালে ‘অমিত ফুড প্রোডাক্টস’-এ গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা হচ্ছে।

উৎপাদন স্থানে তেলাপোকা, ইঁদুর, বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় এবং বিড়ালের অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি। একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর কোনো বৈধ সনদ ছাড়াই খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছিল।

আদালত আরও দেখতে পায়, উৎপাদিত খাদ্যপণ্যের মোড়কে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী লেবেলিং করা হয়নি।

পণ্যের উপাদান, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তথ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অসম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

একই দিন ‘কনকা ড্রিংকিং ওয়াটার’ প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনার সময় মালিকপক্ষ সরকারি কাজে সহযোগিতা না করে প্রতিষ্ঠান ছেড়ে চলে যায়।

এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা ও মহানগর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।

এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এবং পাহাড়তলী থানা পুলিশের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আক্তার কণা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন ও বিপণনে কোনো ধরনের অনিয়ম কিংবা ভোক্তা প্রতারণা সহ্য করা হবে না।

জনস্বার্থে এ ধরনের মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি