গেজেটের আগেই তফসিল! নির্বাচন নাকি পূর্বনির্ধারিত প্রক্রিয়া?

পুরোনোদের পুনর্বাসনের অভিযোগে উত্তপ্ত মাদ্রাসা অঙ্গন

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬ ১৪:১১

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার চর খাগরিয়া রসুরপুর সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসাকে ঘিরে নতুন করে দেখা দিয়েছে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন।

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের অভিযোগ, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক জারীকৃত “বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (দাখিল ও আলিম স্তরের বেসরকারি মাদ্রাসার গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০২৫” কার্যকর হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে যখন নানা আলোচনা চলছিল, তখনই সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসায় কমিটি গঠনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৯ এপ্রিল মাদ্রাসা কমিটি গঠনের তফসিল ঘোষণা করা হয় এবং ১৭ মে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়।

কিন্তু এলাকাবাসীর প্রশ্ন—প্রবিধানমালার গেজেট কার্যকর হওয়ার আগেই কীভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়ার তফসিল ঘোষণা করা হলো?

কোন আইনি ভিত্তিতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা আজও পাননি বলে দাবি করছেন অভিভাবকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের সঙ্গে কোনো উন্মুক্ত মতবিনিময় হয়নি।

এমনকি ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে নির্বাচন প্রসঙ্গে অবহিত করা হলেও অধিকাংশ অভিভাবককে আনুষ্ঠানিকভাবে ডাকা হয়নি। ফলে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

একাধিক অভিভাবকের ভাষ্য, নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিবিধান ও অংশীজনদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে একটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।গেজেট

তাদের অভিযোগ, পূর্বের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আস্তাভাজন কমিটির প্রভাবশালী কয়েকজন সদস্যকে পুনরায় কমিটিতে আনার পথ তৈরি করা হয়েছে। এতে মাদ্রাসা পরিচালনায় নতুন নেতৃত্ব ও জবাবদিহিতার সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় শিক্ষিত অভিভাবকরা মাদ্রাসা সুপারের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি নাকি বলেন, “মাদ্রাসা কমিটি তো নাইট দিয়ে বলা হয় না।”

তবে এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারেননি অভিভাবকরা। তাদের প্রশ্ন ছিল সহজ—যদি নির্বাচনই হয়ে থাকে, তাহলে অভিভাবকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে সমস্যা কোথায় ছিল?গেজেট

এলাকাবাসীর দাবি, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি শুধু প্রশাসনিক কাঠামো নয়, এটি প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে।

সেখানে স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, তখন মাদ্রাসা সুপার তিন দিনের সময় চান বিষয়টি নিয়ে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে।

কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যাখ্যা বা উদ্যোগ না আসায় এলাকায় অসন্তোষ আরও বাড়তে থাকে।

একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যাদের ছবি দেওয়া হয়েছে তারাই পুনরায় আবার এই কমিটিতে আসতেছে বলে এলাকাবাসীর কাছে খুব খারাপ ধারণা তৈরি হয়েছে। মাদ্রাসার প্রতি এলাকাবাসীসহ আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন বিতর্ক নতুন নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া, অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা ক্ষুণ্ন হয়।

আর সেই আস্থার সংকট একসময় শিক্ষার পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এখন স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন—চর খাগরিয়া রসুরপুর সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসার কমিটি গঠনের পুরো প্রক্রিয়া কি প্রবিধানমালার আলোকে হয়েছে, নাকি সেখানে উপেক্ষিত হয়েছে স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণের মৌলিক নীতিমালা?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে এলাকাবাসী, অভিভাবক সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট মহল।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি