তপ্ত দুপুরে এক কাঠি রঙিন আইসক্রিম যখন শিশুর হাতে ওঠে, তখন তার চোখের আনন্দ ছুঁয়ে যায় মা-বাবার মনকেও।
কিন্তু সেই আনন্দের আড়ালেই যদি লুকিয়ে থাকে লিভার-কিডনি বিকল করার মতো মারাত্মক রাসায়নিক আর ঘন চিনি?
চন্দনাইশের দোহাজারীতে এমনই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার হাজারী দীঘির পাড় এলাকায় ‘নিউ আনারকলি’ নামের একটি আইসক্রিম কারখানায় এক ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
সেখানে দেখা যায়, চোখ ধাঁধানো রঙের আড়ালে শিশুদের জন্য তৈরি হচ্ছিল এক প্রকার ‘মিষ্টি বিষ’। ক্ষতিকর ইন্ডাস্ট্রিয়াল রং, নিষিদ্ধ রাসায়নিক আর মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ঘন চিনি (স্যাকারিন ও সোডিয়াম সাইক্লামেট) দিয়ে দেদারসে বানানো হচ্ছিল আইসক্রিম।
“আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তিলে তিলে তাদের ধ্বংস করার জন্য এ ধরনের বিষাক্ত আইসক্রিমই যথেষ্ট।”- মোঃ আবদুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
অভিযানটি পরিচালনা করেন চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবদুর রহমান।
কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের অকাট্য সত্যতা মেলায় ভোক্তা অধিকার আইনে প্রতিষ্ঠানের মালিক শিবু দাশকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়। একই সাথে ধ্বংস করা হয় কারখানায় থাকা বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর উপকরণ।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে লোকালয় ঘেঁষে এই বিষাক্ত বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল চক্রটি।
কম খরচে আকর্ষণীয় রঙ তৈরি করতে কাপড়ের রং ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল মেশানো হতো, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়।
অভিযান শেষে ইউএনও মোঃ আবদুর রহমান অত্যন্ত ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কোনোভাবেই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এভাবে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর লোভের বলি হতে দিতে পারি না। জনস্বার্থে এবং শিশুদের সুরক্ষায় এ ধরনের কঠোর অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।”
আইসক্রিমের মতো লোভনীয় খাবারে এমন বিষাক্ত উপাদানের খবরে স্থানীয় অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছেন, কেবল জরিমানা নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ এবং নিয়মিত কঠোর নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

