প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দুর্গতদের পাশে আছে এবং থাকবে

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬ ১৯:০৪

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেওচিয়া ইউনিয়নের বন্যাকবলিত মেঠোপথ ধরে তখনো থৈ থৈ করছে পানি। চরম দুর্ভোগ আর খাদ্যসংকটে থাকা মানুষগুলোর চোখে-মুখে উৎকণ্ঠা।

ঠিক তখনই দুর্গতদের পাশে এসে দাঁড়ালেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাত বাড়িয়ে দিলেন ভরসার।

সোমবার (১৩ জুলাই) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বন্যাকবলিত মানুষের খোঁজখবর নিতে এবং ত্রাণ বিতরণ করতে এসে প্রতিমন্ত্রী এক ব্যতিক্রমী ও আশাজাগানিয়া বক্তব্য দেন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, বিপদের এই দিনে দেশের কোনো মানুষ নিজেকে একা ভাববেন না।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

দুর্গত মানুষের যেকোনো প্রয়োজনে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।”

বন্যাদুর্গতদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও সমবেদনা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত কয়েকদিন ধরে মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তবে এই দুর্ভোগ সাময়িক।

দ্রুত বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি কামনা করে তিনি আশ্বাস দেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি দুর্গত, অসহায় ও খাদ্যসংকটে থাকা মানুষের কাছে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাজ শুধু জরুরি খাদ্য সহায়তার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর মেরামতে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।

এছাড়া যাদের ফসলের জমি, মাছের ঘের কিংবা গবাদিপশুর ক্ষতি হয়েছে, তাদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করবে।”

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মাঠ প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন বন্যার প্রথম দিন থেকেই দুর্গত মানুষের কষ্ট লাঘবে নিরলসভাবে কাজ করছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্যও শুরু থেকেই ত্রাণ কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় তিনি নিজেই এসব কার্যক্রমের সমন্বয় ও তদারকির জন্য সাতকানিয়ায় ছুটে এসেছেন।

দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রাণ পৌঁছে দিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ ও মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী তাদের প্রতি গভীর ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সোমবার সকাল ১২টায় উপজেলার ইকবাল কনভেনশন সেন্টার থেকে প্রতিমন্ত্রীর ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকায় বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

কেওচিয়া হাইস্কুল: বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সহায়তায় ৩০০ জন দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ। , ধর্মপুর বিশ্বর বাড়ি: ৩০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়া হয়।

বাজালিয়া মাহালিয়া রাস্তার মাথা: জাগরণী ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ৫০০ জন বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ।

উপজেলা পরিষদ: বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ৫০০ কার্টন বিস্কুট এবং ৫০০ প্যাকেট চাল বিতরণ।

ডেমশা ইউনিয়ন পরিষদ: জেলা পরিষদ চট্টগ্রামের সহায়তায় আরও ৩০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ বিতরণ ও পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মোঃ সাইদুজ্জামান, উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসনের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।

বিপদগ্রস্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং জীবনযাত্রা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারের এই মানবিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি