চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকায় সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এমনই দুই প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের চক্রান্ত উন্মোচন করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
সোমবার (৩ আগস্ট) পাহাড়তলী এলাকায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্যাহর নেতৃত্বে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে দুটি অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানকে হাতেনাতে ধরে মোট ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযান সূত্র জানায়, পাহাড়তলী এলাকার ‘জাবেদ ফার্মেসি’তে তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। জীবন রক্ষাকারী এসব ওষুধের মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও তা রোগীদের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে সাজিয়ে রাখা হয়েছিল।
গুরুতর এ অনিয়মের দায় স্বীকার করায় ফার্মেসিটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযানে পাহাড়তলীর ‘ওরশ বাড়ি’ নামক একটি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে আঁতকে ওঠেন অভিযানকারীরা।
চরম নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে সেখানে তৈরি হচ্ছিল খাবার। শুধু তা-ই নয়, খাবারে স্বাদ ও আকর্ষণ বাড়াতে মেশানো হচ্ছিল মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ রাসায়নিক ‘কেওড়াজল’ এবং কৃত্রিম টেক্সটাইল রং মেশানো মরিচের গুঁড়ো।
অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্যাহ জানান, জনস্বার্থ ও ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় অধিদপ্তরের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
অসাধু ব্যবসায়ীদের সাময়িক লাভের কাছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলতে দেওয়া হবে না। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।
অধিদপ্তরের এই কঠোর ও আকস্মিক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। ভেজাল ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকারের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত রাখার দাবি তাদের।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

