বগুড়ায় কাজের সন্ধানে বের হওয়া শ্রমজীবীদের চাপা দিল বাস, নিহত ৬

প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:০৭

দিনমজুরির কাজ পেয়ে পরিবারের জন্য দুটো ডাল-ভাতের ব্যবস্থা করবেন, এই আশায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন একদল শ্রমজীবী মানুষ।

কিন্তু কাজের সুযোগ আসার আগেই তাঁদের ওপর ধেয়ে এল কালান্তক বাস। বেপরোয়া গতির এক চাকা কেড়ে নিল অন্তত ছয়টি জীবন, গুঁড়িয়ে দিল কতগুলো দিন এনে দিন খাওয়া পরিবারের স্বপ্ন।

আজ শুক্রবার ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্দা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনজন, আর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও তিনজন। দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নওগাঁগামী ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহন’ এর একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কের এরুলিয়া সিল্কিবান্দা এলাকায় পৌঁছালে চালক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারান।
দ্রুতগতির বাসটি বিকট শব্দে সড়কের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সজোড়ে আঘাত করে।
চালকের বেপরোয়া গতি কিংবা হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ার কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি সড়কের পাশে অপেক্ষমাণ শ্রমজীবী মানুষের ওপর উঠে যায়।
মুহূর্তের মধ্যেই রক্তাক্ত হয়ে ওঠে মহাসড়ক। চারদিকে শুরু হয় আহতদের আর্তনাদ ও স্বজনদের হাহাকার।
খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় অধিবাসীরা যৌথভাবে দ্রুত উদ্ধার কাজে নামেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক আরও তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, নিহত ও আহত ব্যক্তিরা সবাই দিনমজুর এবং স্থানীয় বাসিন্দা।

প্রতিদিনের মতো তাঁরা ভোরে কাজের সন্ধানে হাটে বা নির্দিষ্ট স্থানে যাওয়ার জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। তাত্ক্ষণিকভাবে তাঁদের সবার নাম-পরিচয় জানা যায়নি, পুলিশ পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।

হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এখন শুধুই স্বজন হারানো মানুষের হৃদয়বিদারক আহাজারি। বেপরোয়া দূরপাল্লার গাড়ি আর চালকদের অসাবধানতার বলি হয়ে আর কত নিরীহ শ্রমিকের প্রাণ যাবে-এই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের কণ্ঠে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি