মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ-রাষ্ট্রপতির আসন। আর সেই বঙ্গভবনের মসনদ ঘিরে শুরু হয়ে গেছে চূড়ান্ত ক্ষণগণনা।
কার মাথায় উঠতে যাচ্ছে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপ্রধানের মুকুট? এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সারা দেশে বইছে জল্পনা-কল্পনার ঝড়।
সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দিকেই এখন দেশের কোটি মানুষের দৃষ্টি। ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইসি সচিবালয়ের এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, জমা পড়া ৩টি মনোনয়নপত্রের লড়াইটা মূলত দুজন অভিজ্ঞ রাজনীতিকের মধ্যে।
যার একটি জমা পড়েছে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে। আর বাকি দুটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের পক্ষে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। আমাদের সংবিধানের সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা বাধ্যতামূলক।
দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটি যেন বেশিদিন খালি না থাকে, সে লক্ষ্যেই দ্রুত পদক্ষেপ নেয় নির্বাচন কমিশন। গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হয় এই নির্বাচনের বহুল প্রতীক্ষিত তফসিল।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৬ আগস্ট জমা পড়া মনোনয়নপত্রগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করবে নির্বাচন কমিশন। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে ১৮ আগস্ট।
আর যদি শেষ পর্যন্ত দুই প্রার্থীই ভোটের মাঠে লড়াইয়ে বহাল থাকেন, তবে আগামী ২০ আগস্ট বসছে চরম উত্তেজনাকর সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
সেদিন জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে জাতীয় সংসদের সকল মাননীয় সদস্যদের গোপন ভোটের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে এই বহুল আলোচিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
সব মিলিয়ে বঙ্গভবনের অভিভাবক কে হচ্ছেন-তা জানতে দেশবাসীকে অপেক্ষা করতে হবে আগামী ২০ আগস্টের নির্বাচন পর্যন্ত।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

