গ্যাস নেই, চাকা বন্ধ, পেটে টান: চট্টগ্রামের রাজপথে চালকদের হাহাকার

তিন গুণ ভাড়ায় জিম্মি নগরবাসী

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪৬

সময়টা ২৪ ঘণ্টারও বেশি, কালুরঘাট-বিমানবন্দর সড়কের ষোলশহর অংশে অপেক্ষার সময়টা যেন থমকে দাঁড়িয়ে আছে কোনো এক অনিশ্চয়তার ফাঁদে।

একের পর এক চার চাকার সিএনজিচালিত অটোরিকশা লাইনে দাঁড়িয়ে, অথচ সিলিন্ডার খালি।

পেটের টানে রাজপথে নামা শত শত চালকের জমানো ক্ষোভের আগুন অবশেষে ছড়িয়ে পড়ল পিচঢালা রাস্তায়।

গ্যাসের দাবিতে আজ শুক্রবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম মহানগরের ষোলশহর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন অটোরিকশা চালকেরা।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মুরাদপুর থেকে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত সড়কজুড়ে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ।

ষোলশহরের ‘ফসিল ফিলিং স্টেশন’-এর সামনে সারিবদ্ধ শত শত অটোরিকশা যেন এক নীরব আর্তনাদের প্রতীক। ঘ

ণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও এক ফোঁটা গ্যাস না পেয়ে ক্ষুব্ধ চালকেরা একপর্যায়ে গাড়ির চাকা বন্ধ রেখে নেমে আসেন রাজপথে।

২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্যাস না পাইলে গাড়ি সামলাব কীভাবে, আর দিনশেষে পরিবারকে খাওয়াব কী? আমাদের তো বসে থাকলে পেট চলে না!-চোখের কোণে জমে থাকা ক্লান্তি ও ক্ষোভ চেপে কথাগুলো বলছিলেন আব্দুল করিম নামের এক চালক।

একই সুর অন্য চালক আজিজ এর কণ্ঠেও। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নগরের কোথাও গ্যাস নেই। স্টেশনগুলো নির্দিষ্ট করে কিছুই বলতে পারছে না। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, রাজপথে নামা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

এই তীব্র অসন্তোষের প্রভাবে সকালেই স্থবির হয়ে পড়ে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। মুরাদপুর, ষোলশহর ও দুই নম্বর গেট এলাকায় দেখা দেয় তীব্র যানজট।

বহদ্দারহাট থেকে আসা যানবাহনগুলোকে বিকল্প হিসেবে জিইসির মোড় হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। খবর পেয়ে সিএমপির পাঁচলাইশ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহেদুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই চালকেরা সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। পুলিশ চালকদের বুঝিয়ে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছে।

তবে বিক্ষুব্ধ চালকদের এক কথা-গ্যাস সরবরাহের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।

এদিকে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবি, সংকট তাদের সৃষ্টি নয়। ফসিল ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, মূল সরবরাহ লাইনেই গ্যাস নেই। চাপ না থাকলে আমরা কীভাবে গ্যাস দেব? সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের হাত-পা বাঁধা।

চলতি মাসের শুরু থেকেই চট্টগ্রাম নগরে সিএনজি গ্যাসের এই সংকট ডালপালা মেলছিল। গত তিন দিনে তা রূপ নিয়েছে চরম রূপ।

একদিকে চালকদের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে জীবনযাত্রা থমকে গেছে, অন্যদিকে রাজপথে গণপরিবহন কমে যাওয়ায় জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

নিরুপায় হয়ে অনেককে তিন গুণ বাড়তি ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।

সিএনজির শূন্য সিলিন্ডার আর চালকদের এই ক্ষোভ কেবল গ্যাসের সংকট নয়, তা এখন পুরো চট্টগ্রাম নগরীর স্থবিরতার এক জ্বলন্ত ছবি।

সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই ভোগান্তির শেষ কোথায়, সেই উত্তর এখন কারও জানা নেই।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি