চট্টগ্রাম বহির্নোঙরে স্রোতের তাণ্ডব: ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের দুই জাহাজের সংঘর্ষ

কপালজোরে বাঁচল ২১ নাবিকের প্রাণ

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:১০

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর যেন হঠাৎ করেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক দুই জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে বন্দরজুড়ে।

শনিবার গভীর রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আলফা অ্যাঙ্কোরেজে ঘটে যায় এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনা। রাত তখন আনুমানিক সাড় ১২টা। প্রায় ৩৫ হাজার ৩৫০ টন স্ল্যাগবোঝাই লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী দানবীয় বাল্ক ক্যারিয়ার ‘এমভি আনাসা’ যখন নোঙর বাঁধার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখনই বাঁধ সাধে সাগরের তীব্র স্রোত।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আনাসা সরাসরি আঘাত করে সেখানে আগে থেকেই নোঙর করে রাখা বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি জাহাব জাহান’-এর সামনের অংশে।

বিকট শব্দে সজাগ হয়ে ওঠেন নাবিকেরা। সংঘর্ষের তীব্রতায় আনাসার ডান পাশের (স্টারবোর্ড) শক্ত স্টিলের কাঠামো বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তবে সৌভাগ্যক্রমে, বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। ঘটনার পর পরই জাহাজ দুটি নিজেদের ছাড়িয়ে নিয়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে নোঙর ফেলে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ও মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রবল স্রোতের কারণে আনাসা এসে নোঙর করা জাহাব জাহানকে ধাক্কা দেয়। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, জাহাজে পানিও ঢোকেনি এবং পরিবেশের কোনো ক্ষতি বা তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেনি।

জাহাজ দুটিতে থাকা ২১ জন নাবিকের সবাই অক্ষত ও নিরাপদে রয়েছেন। বর্তমানে ওই রুটে নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।

ঘটনার পরপরই সমুদ্রের উদ্ধারকারী টাগ ‘কান্ডারি-৮’ ও ‘বিএলভি লুসাই’ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

দুর্ঘটনায় পড়া জাহাব জাহান ২০০০ সালে তৈরি ১৯০ মিটারের একটি বিশালাকার জাহাজ।

অন্যদিকে, ২০১১ সালে জাপানের ইওয়াগি শিপবিল্ডিংয়ে তৈরি ‘এমভি আনাসা’ পূর্বে ‘নিও বিচউড’ ও ‘আইভিএস বিচউড’ নামে সাগরে রাজত্ব করেছে।

উদ্বেগের বিষয় হলো, এর ঠিক এক দিন আগে-১৪ আগস্ট বিকেলে, একই এলাকায় ঘটেছিল আরেক বিপজ্জনক দুর্ঘটনা।

প্রায় ৩৩ হাজার টন প্রাণঘাতী ডিজেল বহনকারী ট্যাংকার ‘এমটি সি স্পাইক’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোড়ে ধাক্কা দিয়েছিল নোঙর করা ‘এমভি সানশাইন’ জাহাজকে। সেযাত্রায়ও বড় ধরনের কোনো পরিবেশ বিপর্যয় ঘটেনি।

পরপর দুই দিনে এমন বিপজ্জনক ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট কেন তৈরি হলো, তা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

দুটি জাহাজের গতি, অবস্থান, ওই মুহূর্তের সমুদ্রের প্রলয়ংকরী স্রোত এবং পাইলটেজের সম্ভাব্য কোনো ত্রুটি ছিল কি না-সবকিছুই গভীর তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি