নিজের দোকানে চুরি, ধামাচাপায় স্ত্রীর মাধ্যমে অপহরণের ‘মাস্টারপ্ল্যান

শেষ রক্ষা হলো না রেদুয়ানুলের: সাড়ে ৮ লাখ টাকার ক্যামেরাসহ আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:৪১

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় নিজের দোকানের চুরির ঘটনা আড়াল করতে আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে মো. রেদুয়ানুল হক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকার ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে।

আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে লোহাগাড়া থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকী এসব তথ্য জানান।

পুলিশ জানায়, গত ৯ অক্টোবর রাতে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ বাজারের মোস্তফা সিটি মার্কেটের প্রথম তলায় অবস্থিত ‘ওয়েডিং ফটোগ্রাফি’ নামের দোকানটি বন্ধ করে বাইরে যান মালিক বাবলু পাল।

পরদিন ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফিরে এসে তিনি দেখেন, দোকানের স্লাইডিং গ্লাসের দরজার তালা ভাঙা এবং ভেতরের মূল্যবান ক্যামেরা ও সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে।

চুরি যাওয়া সরঞ্জামের মধ্যে ছিল ৩টি সনি আলফা সেভেন থ্রি (SONY α7III) ক্যামেরা, ১টি সনি আলফা সেভেন সি (SONY α7C) ক্যামেরা, বিভিন্ন মডেলের ৮টি ক্যামেরা লেন্স, ২টি ব্যাটারি ও ১টি চার্জার। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা।

এ ঘটনার দুই দিন পর, গত ১২ অক্টোবর রেশমী আক্তার নামের এক নারী থানায় অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী মো ওয়েদুয়ানুল হককে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা অপহরণ করেছে।

পুলিশ জানায়, দুটি অভিযোগ পাওয়ার পর পৃথকভাবে তদন্ত শুরু হয়। একপর্যায়ে আমিরাবাদ বাজার ও মোস্তফা সিটি মার্কেটের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চুরির ঘটনায় মো. রেদুয়ানুল হকের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।

একই সঙ্গে কথিত অপহরণের অভিযোগের পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও পুলিশের সন্দেহ হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (২ নভেম্বর) লোহাগাড়া থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পদুয়া ইউনিয়নের নাওঘাটা আওয়ারপাড়া এলাকা থেকে রেদুয়ানুল হককে গ্রেপ্তার করে।

পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিজ বসতঘর থেকে চুরি যাওয়া সমস্ত মালামাল উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকী বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার মো. রেদুয়ানুল হক চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছেন।

পাশাপাশি চুরির ঘটনা বিভ্রান্ত করতে এবং অপরাধ আড়াল করতে নিজেই আত্মগোপনে থেকে স্ত্রীকে দিয়ে থানায় অপহরণের মিথ্যা অভিযোগ করানোর কথা স্বীকার করেছেন তিনি।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি