back to top

চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে মুহুর্মুহু গুলি

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৭:২৭

সিটিজি নিউজ টুডে : চট্টগ্রাম নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করেছে সন্ত্রাসীরা।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পুলিশি পাহারায় থাকা অবস্থায় এ শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাসায় এ গুলিবর্ষণ করা হয়।

কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা বাসা লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছেন বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি ওই বাসায় গুলি করেছিলেন সন্ত্রাসীরা। গুলিতে বাসার জানালার কাচ ভেঙে গিয়েছিল। বাসার দরজায়ও গুলি লাগে।

এর পর থেকে বাসাটি পুলিশের পাহারায় ছিল। পুলিশের পাহারার মধ্যেই বাসাটিতে আবারও গুলির ঘটনায় আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছেন। প্রথমে ১০ কোটি টাকা, পরে ৫ কোটি টাকা দাবি করেন সাজ্জাদ।

চাঁদা না দেয়ায় গত ২ জানুয়ারিও তার বাসায় গুলি করা হয়েছিল। এরপরও চাঁদা না পেয়ে ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে একটি বার্তা দেন সাজ্জাদ। এতে লেখা হয়—‘ওয়েট অ্যান্ড সি’।

মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, ‘সকালে নামাজ পড়ে সবাই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে হঠাৎ বাসার পেছনে মুখোশধারী অস্ত্রধারীরা গুলি করতে থাকে। ৬ থেকে ৭ রাউন্ড গুলি করেছে।’

তিনি বলেন, ‘সিকিউরিটি গার্ড সন্ত্রাসীদের দেখতে পেয়ে বাসার পাহারায় থাকা পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্যকে বিষয়টি জানায়।

পুলিশ সদস্যরা বাসার দোতলায় উঠে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে গুলি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে এর আগেই সন্ত্রাসীরা চলে যায়।

সন্ত্রাসীদের হাতে পিস্তল, চায়নিজ রাইফেলসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ছিল।’ ঘটনার বিষয়ে মামলা করেছেন কি না প্রশ্নের উত্তরে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মামলা করে কী হবে। পুলিশ আছে, এর মধ্যে গুলি করেছে।’

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা চারজন ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর বাসার কাছে আসেন। এরপর বাসাটি লক্ষ্য করে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি ছুড়তে থাকেন।

সিসিটিভি বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, চার সন্ত্রাসীর মধ্যে একজনের দুই হাতে দুটি পিস্তল ছিল।

বাকি তিনজনের মধ্যে একজন সাব মেশিনগান (এসএমজি), একজন চায়নিজ রাইফেল এবং অন্যজন শটগান থেকে গুলি ছোড়েন।

খবর পেয়ে নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়ার নেতৃত্বে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশের একটি দল।

পরিদর্শন শেষে হোসাইন কবির ভূঁইয়া বলেন, সন্ত্রাসীরা একটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলযোগে ওই এলাকায় আসে। গাড়ি একটু দূরে রেখে হেঁটে বাসার কাছে গিয়ে গুলি করে। এরপর কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চাঁদার জন্য বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদ তার লোকজন দিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ কর্মকর্তা হোসাইন কবির ভূঁইয়া আরও বলেন, অস্ত্রধারীরা মুখোশধারী হওয়ায় তাদের সহজে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

তবে সাজ্জাদের সহযোগী সন্ত্রাসী মো. রায়হান ও বোরহান এ ঘটনায় জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।

স্মার্ট গ্রুপ একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী। ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের ছোট ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গত ২ জানুয়ারিও তাদের বাসাটিতে গুলি করার ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিল পুলিশ। তবে ঘটনার পর কোনো মামলা করা হয়নি।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি