সীতাকুণ্ডের আসাদুল ফিরলেন লাশ হয়ে-চমেক মর্গে পরিচয়হীন সহযাত্রীর মরদেহ!

চট্টগ্রামের বন্দর থানা এলাকায় বাইক দুর্ঘটনা

প্রকাশিত: ০৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫৮

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দুমপাড়া এলাকার অন্ধকার সড়কটি মুহূর্তেই কেড়ে নিল দুটি তাজা প্রাণ।

এক মোটরসাইকেলে চড়ে গন্তব্যে রওনা হওয়া দুই আরোহী আর বাড়ি ফিরতে পারলেন না। তাদের গন্তব্য এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শীতল মর্গ।

শনিবার (৪ জুলাই) রাত ১১টার দিকে নগরীর বন্দর থানার দুমপাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় দুই আরোহীকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে নিয়তির লিখন ততক্ষণে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতদের একজনের পকেটে থাকা নথিপত্র বা স্বজনদের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে পুলিশ। তার নাম আসাদুল (৫০)। তিনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকার বাসিন্দা।

কিন্তু তার ঠিক পাশেই পড়ে থাকা আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী অপর সহযাত্রীর পরিচয় এখনো এক কুয়াশায় ঢাকা।

তিনি কার বাবা, কার সন্তান কিংবা কার ভাই-তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চমেক মর্গের হিমঘরে তিনি এখন শুধুই এক ‘অজ্ঞাত পরিচয়’ লাশ।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “দুর্ঘটনার সময় তারা দুজনই একই মোটরসাইকেলে ছিলেন।

চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পরই চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।”

কীভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল? কোনো ভারী যান কি পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গেছে, নাকি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই বিপর্যয়-তা এখনো স্পষ্ট নয়।

ওসি মো. আব্দুর রহিম জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে নিহত অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর আসাদুলের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তবে তার চেয়েও বড় নির্মমতা যেন তাড়া করে ফিরছে অন্য পরিবারটিকে, যারা হয়তো এখনো পথ চেয়ে বসে আছেন-প্রিয় মানুষটি চেনা কোলাহল ঠেলে ঘরে ফিরবে বলে।

তারা এখনো জানেনই না, তাদের অপেক্ষার প্রহর আর কোনোদিন শেষ হবে না।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি