খুলশীতে ইয়াবা বাণিজ্যে ফাঁসলো স্বামী-স্ত্রী: ভাড়া বাসা থেকে ৪ হাজার ইয়াবা জব্দ

প্রকাশিত: ০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৫৫

শান্ত-শিষ্ট স্বামী-স্ত্রী মিলে নগরীর অভিজাত খুলশী থানা এলাকার রেলওয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন পোস্ট অফিস কলোনির একটি ভাড়া বাসায় শান্তিতে বসবাস করছিলেন।

কিন্তু এই সুশীল আড়ালের অন্তরালে যে লুকিয়ে ছিল এক বিষাক্ত রূপ, তা হয়তো প্রতিবেশীদের কল্পনাতেও ছিল না।

দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা থেকে আসা মরণনেশা ইয়াবা নগরের কোণায় কোণায় পৌঁছে দেওয়ার এক বিশাল গোপন ঘাঁটি গড়ে তুলেছিলেন এই দম্পতি।

অবশেষে সেই বিষাক্ত জাল ভেদ করল খুলশী থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত পৌনে আটটার দিকে স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে পোস্ট অফিস কলোনির ওই ভাড়া বাসায় এক ঝটিকা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।

অভিযানের খবর টের পাওয়ার আগেই হাতেনাতে আটকে যান মো. ইসহাক (২৮) ও তাঁর স্ত্রী সনিয়া আক্তার (২৪)।

আটকের পর পুরো ঘরে শুরু হয় চুলচেরা তল্লাশি। একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা ২০টি বিশেষ প্যাকেট উদ্ধার করেন অভিযান পরিচালনাকারী খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ পরান ও তাঁর টিম।

প্যাকেটগুলো খুলতেই বেড়িয়ে আসে লাল রঙের মরণনেশা-সুনির্দিষ্টভাবে গুণে পাওয়া যায় মোট ৪,০০০ (চার হাজার) পিস ইয়াবা।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে চমকপ্রদ সব তথ্য।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে এই দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন স্থানে খুচরা ও পাইকারি ইয়াবার চালান পৌঁছে দিচ্ছিলেন।

তবে এই নেটওয়ার্কের গল্প এখানেই শেষ নয়, এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছেন এক রহস্যময়ী নারী।

‘নাজমা’ নামের ওই নারী পুরো সিন্ডিকেটের মূল সমন্বয়কারী বা ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ হিসেবে নেপথ্যে থেকে কলকাঠি নাড়ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতা ও পুলিশের তৎপরতায় এই বড় চালানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে।

হাতেনাতে ধরা পড়া ইসহাক-সনিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একইসাথে এই সিন্ডিকেটের মূল উপশমকারী ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ নাজমাকে জালে তুলতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি