মন খুলে গান গাওয়া যায়, নম্বর দেওয়া যায় না: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৫৩

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক ব্যতিক্রমী ও স্পষ্ট রাজনৈতিক-প্রশাসনিক অবস্থানের দ্যুতি ছড়িয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের কৃত্রিমতা বা শিথিলতা প্রদর্শন করা হয়নি উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় তো আর নম্বর দেওয়া যায় না।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মন্ত্রী। সম্মেলনের শুরু থেকেই পরিবেশ ছিল বেশ গম্ভীর ও পরিমিত।

একপর্যায়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন তোলেন-আজকের সংবাদ সম্মেলনের আবহ অন্যান্যবারের মতো অতটা উৎসবমুখর মনে হচ্ছে না এবং মন্ত্রী কিছুটা ‘ডিপ্লোমেটিক’ বা কৌশলী উত্তর দিচ্ছেন।

সাংবাদিকের এমন মন্তব্যের জবাবে তাৎক্ষণিক ও রসময় ভঙ্গিতে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আপনি বলুন উৎসবমুখর-আমি তো বললাম মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষার খাতায় নম্বর দেওয়া যায় না, এর চেয়ে আর কী বলতে পারি বলুন?

চলতি বছরের ফলাফল কি খারাপ হয়েছে?-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের মুখে শিক্ষামন্ত্রী ফলাফলাকে কোনোভাবেই ‘খারাপ’ বলতে রাজি হননি।

তিনি দৃঢ়তার সাথে জানান, ফলাফল অত্যন্ত সুন্দর ও বাস্তবসম্মত হয়েছে। এবার শিক্ষার্থীরা খাতা মূল্যায়ন শেষে যে নম্বর পাওয়ার যোগ্য ছিল, ঠিক সেই নম্বরই তাদের দেওয়া হয়েছে। এখানে কৃত্রিমভাবে নম্বর বাড়িয়ে দেখানোর কোনো চেষ্টা করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে এবারের পরীক্ষার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কথা জানান মন্ত্রী।

তিনি উল্লেখ করেন, এতদিন ফলাফল প্রত্যাশিত না হলে কেবল ‘পুনর্নিরীক্ষণ’ (Re-scrutiny)-এর সুযোগ ছিল-যেখানে প্রধানত খাতার প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগের ভুল বা কোনো প্রশ্ন উত্তরের গণনায় বড় কোনো ভুল বাদ পড়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হতো। নতুন করে পুরো উত্তরপত্র মূল্যায়নের কোনো সুযোগ ছিল না।

তবে এবার পরীক্ষার্থীদের জন্য সেই নিয়ম শিথিল করে আরও বড় সুযোগ নিয়ে আসা হয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এবার ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা চাইলে তাদের উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের প্রক্রিয়ায় ‘পুনঃপরীক্ষা’ বা পূর্ণ ‘পুনর্মূল্যায়নে’র (Re-evaluation) সুবিধা পাবে।

একই অনুষ্ঠানে একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। তিনি জানান, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মূল ফলাফল এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিজস্ব পছন্দক্রম (Preference) অনুযায়ী একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই দৃঢ় ও স্বচ্ছ বার্তা কেবল শিক্ষার মান বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয় না, বরং শিক্ষার্থীদের নিজেদের প্রকৃত মেধার ওপর আস্থা রাখার এক শক্ত আহ্বান জানিয়ে গেল।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি