কাগজের হিসেবে বৈধ আয় ছিল মোটে পৌনে ১৫ লাখ টাকা। অথচ বাস্তবে গড়ে তুলেছিলেন প্রায় এক কোটি টাকার সুবিশাল সম্পত্তি!
আয়ের সঙ্গে সম্পদের এই আকাশ-পাতাল অসঙ্গতি এবং কৌশলে তথ্য গোপনের হিসাব মেলাতে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হলেন আনোয়ারার ছাবেরুল ইসলাম (৩৯)।
আদালতের কাঠগড়ায় উন্মোচিত হলো তার সেই লুকানো সম্পদের অংক, আর পরিণতিতে মিললো চার বছরের কারাদণ্ডসহ কোটি টাকার কাছাকাছি জরিমানা।
সোমবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত এই চাঞ্চল্যকর রায় ঘোষণা করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দণ্ডিত ছাবেরুল ইসলাম আনোয়ারা উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পরুয়াপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।
দুদকের অনুসন্ধানী নথি অনুযায়ী, ছাবেরুল ইসলামের নামে মোট ৯০ লাখ ১১ হাজার ২৩১ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়।
একই সময়ে তার পারিবারিক ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় ধরা হয় ৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ, ব্যয়সহ তার অর্জিত সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় মোট ৯৭ লাখ ৪৬ হাজার ২৩১ টাকায়।
কিন্তু বিপত্তি ঘটে যখন দুদকের অনুসন্ধান দল তার আয়ের বৈধ উৎস খতিয়ে দেখতে শুরু করে।
নথিপত্র ঘেঁটে ছাবেরুলের গ্রহণযোগ্য ও আইনি আয়ের পরিমাণ পাওয়া যায় মাত্র ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। ফলে তার মোট সম্পদের মধ্যে ৮২ লাখ ৭৬ হাজার ২৩১ টাকাই পাওয়া যায় ‘জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত’-সহজ কথায়, অবৈধ উপায়ে অর্জিত।
শুধু অবৈধ সম্পদ অর্জনই নয়, দুদকের কাছে নিজের আয়ের বিবরণী জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও চতুরতার আশ্রয় নেন ছাবেরুল। কমিশনে দাখিল করা নথিতে তিনি সুকৌশলে ২৭ লাখ ৯০ হাজার ২৩১ টাকার সম্পদ গোপন করে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন।
কিন্তু দুদকের সুক্ষ্ম বিচারে রক্ষা মেলেনি সেই আড়ালের। অনুসন্ধান শেষে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সোমবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অবৈধ উপায়ে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া এবং রাষ্ট্রের চোখ ফাঁকি দিয়ে সম্পদের তথ্য গোপন করার পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
দুদকের পিপি মোকাররম হোসাইন জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ছাবেরুল ইসলামকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি তার অবৈধভাবে অর্জিত সমুদয় অর্থের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আনোয়ারার এই আলোচিত রায় দুর্নীতিবাজ ও অসৎ উপায়ে সম্পদ অর্জনকারীদের জন্য এক কড়া হুঁশিয়ারি হিসেবেই দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

