এমপি শাহজাহান চৌধুরীকে ঘিরে ভাইরাল অডিওতে কণ্ঠ কার?

লোহাগাড়ায় এলে পায়ে গুলি-ভাইরাল অডিওতে নতুন বিতর্ক!

প্রকাশিত: ১৯ জুন, ২০২৬ ১০:২৭

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে লক্ষ্য করে পায়ে গুলি করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে—এমন একটি অডিও কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অডিওটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও কৌতূহল।

ফাঁস হওয়া ওই অডিওতে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচিত আরমান উদ্দিনের কণ্ঠ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জোরালো দাবি উঠেছে।

তবে অডিওটির সত্যতা কিংবা এতে থাকা কণ্ঠস্বরের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অডিওতে কথোপকথনে অংশ নেওয়া দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের কণ্ঠ আরমান উদ্দিনের বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

ভাইরাল হওয়া অডিওর একটি অংশে অপর ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “লোহাগাড়ায় কোনোভাবেই সংসদ সদস্য আসতে পারবেন না। তিনি এলে পায়ে গুলি করে জবাব দেওয়া হবে।”

এর জবাবে কথিতভাবে আরমান উদ্দিনের কণ্ঠে বলতে শোনা যায়, তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে লোহাগাড়ায় না আসার জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

তবে জনগণের অনুরোধে তিনি সেখানে যেতে বাধ্য হন বলেও ওই কথোপকথনে উল্লেখ রয়েছে।

অডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। পুলিশ এখনও কোনো অডিও লিংক বা আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি।”

একই বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, “এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ বা তথ্য নেই।”

ফাঁস হওয়া অডিওটির সত্যতা যাচাই কিংবা এ ঘটনায় কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফলে অডিওটির উৎস, বক্তব্যের বাস্তবতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে আলোচিত অডিও প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী আরমান উদ্দিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঘটনাটি নিয়ে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপরিসর—সবখানেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভাইরাল হওয়া এই অডিও এবং এর নেপথ্যের বাস্তবতা।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি