শেষ ষোলোতেই থামল ব্রাজিলের বিশ্বজয়ের মিশন,নেইমারের সান্ত্বনার গোল

সুযোগ নষ্টের মহড়া বনাম হলান্ড ম্যাজিক

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:১২

মরক্কোর সাথে ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছিল। এরপর হাইতি ও স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হওয়া।

শেষ বত্রিশে জাপানকে হারিয়ে যখন কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা ডানা মেলতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই বিশ্বজয়ের মঞ্চে নেমে এল নরওয়েজিয়ান অন্ধকার।

আরও একবার হেক্সা জয়ের অধরা স্বপ্ন বুকের গহীনে চেপে, মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

রাউন্ড অব সিক্সটিনের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল হলুদ জার্সিধারীরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ আর পাল্টা-আক্রমণে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। খেলার মাত্র দুই মিনিটেই আর্লিং হলান্ডের নরওয়ে ব্রাজিলের জালে বল পাঠিয়ে স্তব্ধ করে দিয়েছিল সেলেসাও ভক্তদের।

তবে অফসাইডের কল্যাণে সে যাত্রা বেঁচে যায় ব্রাজিল। ভাগ্য দেবী যেন তখনো ব্রাজিলের পাশেই ছিলেন। ম্যাচের আট মিনিটে এক দুর্দান্ত আক্রমণে নরওয়ের বক্সে ফাউলের শিকার হন মাথেউস কুনিয়া।

ভিএআর (VAR) রিভিউ দেখে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজালে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ আসে ব্রাজিলের সামনে।

কিন্তু ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বদলে স্পটকিক নিতে এসে চরম হতাশ করেন ব্রুনো গিমারেস। তাঁর দুর্বল শট সহজেই রুখে দেন নরওয়ের প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক ওরইয়ান নিল্যান্ড।

এর কিছুক্ষণ পর ২৩ মিনিটে ওয়ান-টু-ওয়ান পজিশনে গোলরক্ষককে একা পেয়েও বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন কুনিয়া।

প্রথমার্ধের বাকি সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি ও ভিনিসিয়ুসের একের পর এক বিষাক্ত শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন ম্যাচ জুড়ে অতিমানবীয় পারফর্ম করা নরওয়েজিয়ান কিপার নিল্যান্ড।

অন্যদিকে, প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে নরওয়ে অধিনায়ক মার্তীন ওডেগার্ডের নিশ্চিত গোলের শট ঠেকিয়ে ব্রাজিলের ত্রাতা হন অ্যালিসন বেকার। ফলে গোলশূন্যভাবেই শেষ হয় প্রথমার্ধ।

দ্বিতীয়ার্ধে নরওয়ে কোচ মাঠে নামান আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপকে। আর এই একটি পরিবর্তনই যেন ম্যাচের ভাগ্য লিখে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কুনিয়ার বদলে তরুণ তুর্কি এন্দ্রিক মাঠে নেমে ভিনির পাস থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন।

নরওয়ের গোলরক্ষক নিল্যান্ডের দেয়াল ভাঙতে পারছিল না ব্রাজিলের কোনো আক্রমণই। উল্টো বদলি নামা শেলদেরুপের ক্রাফটসম্যানশিপে ম্যাচের দখল নিতে শুরু করে নরওয়ে।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্স ভেঙে নরওয়েকে এগিয়ে নেন গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড।

১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় নেইমার-ভিনিরা। কিন্তু ভাগ্য এবং নরওয়ের ডিফেন্স-কোনোটিই আজ ব্রাজিলের পক্ষে ছিল না।

উল্টো ম্যাচের ৯০ মিনিটে আবারও শেলদেরুপের অ্যাসিস্ট থেকে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্রাজিলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন হলান্ড।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা ৭ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পায় ব্রাজিল।

স্পটকিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র। তবে এই গোলটি কেবলই ছিল সান্ত্বনার।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই নিশ্চিত হয়ে যায়-হলান্ডের জোড়া গোলের কাছে আত্মসমর্পণ করে আরও একবার হেক্সা মিশন অপূর্ণ রেখেই অশ্রুসিক্ত চোখে বিশ্বকাপকে বিদায় জানাতে হলো সেলেসাওদের।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি