পড়াশোনা শেষ করে অন্যান্য সহপাঠীদের মতো আর দশটা সাধারণ শিশুর মতোই বাড়ি ফেরার কথা ছিল আট বছরের খুদে শিক্ষার্থী ফয়জুল।
কিন্তু বিকেলে মাদ্রাসার ছুটি হলেও মন ভালো নিয়ে বাড়ি ফেরা হয়নি তার। উল্টো বাড়ি ফিরেই মায়ের পা জড়িয়ে ধরে এক অবুঝ শিশুর আকুল আকুতি- মা, আমাকে আর কোনোদিন মাদ্রাসায় পাঠিও না।
একটানা কান্নার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই কারণ জানতে চাইলে শিশুটি প্রকাশ করে এক বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার কথা।
নিজের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিই যে তার জন্য নরকযন্ত্রণার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল, তা জানতে পেরে শিউরে ওঠেন স্বজনরা।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানার পশ্চিম চেচুরিয়া ঘোনাপাড়া এলাকার জায়েকুলের আট বছর বয়সী ছেলে মনিরুল ফয়জুল (পিতা-পূত্আরের) ছদ্সাম নাম।।
ছ’সাত মাস আগে তাকে পরম যত্নে ভর্তি করানো হয়েছিল স্থানীয় বাঁশখালী দারুচ্ছুন্নাহ খাইরিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগে। কিন্তু সেখানে দ্বীন শিক্ষার আলোর বদলে খুদে শিশুটিকে মুখোমুখি হতে হয়েছে শিক্ষক নামধারী এক নরপিশাচের লালসার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রমিজ উদ্দীন (৩১) শিশুটিকে ভর্তি করার পর থেকেই তার ওপর অসৎ চোখ রাখেন। ইতিপূর্বেও একাধিকবার সুযোগ বুঝে মাদ্রাসার ওয়াশরুমে মুখ চেপে ধরে শিশুটিকে বলাৎকার করেন তিনি।
সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মাদ্রাসার অন্যান্য শিশুরা যখন মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত, সেই সুযোগে প্রধান শিক্ষক রমিজ শিশুটিকে এতিমখানার হেফজ বিভাগের দ্বিতীয় তলার নির্জন ক্লাসরুমে ডেকে নেন।
সেখানে শিশুটির অনিচ্ছা সত্ত্বেও বলপূর্বক তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য দেওয়া হয় কড়া হুমকি ও ভয়ভীতি।
কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে ঘটনাটি সব খুলে বলে শিশুটি। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪০, তারিখ: ২৯ জুলাই ২০২৬)।
ঘটনার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক। তবে পালিয়ে শেষ রক্ষা হয়নি তার।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৩ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে র্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি চৌকস আভিযানিক দল চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানাধীন কর্ণফুলী টানেল সংলগ্ন চায়না রোডস্থ বৈরাগ এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায়।
সেখান থেকে বাঁশখালীর উত্তর সরল এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে এজাহারনামীয় ১ নম্বর পলাতক আসামি মুহাম্মদ রমিজ উদ্দীনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ব্যাপারে র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে তাকে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শিক্ষকের মতো এমন একটি পবিত্র পেশায় থেকে শিশুর সঙ্গে সংঘটিত এ জঘন্য অপরাধের খবর ছড়িয়ে পড়তেই পুরো এলাকায় নেমে এসেছে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের ছায়া।
বিচারপ্রার্থী সচেতন মহল অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

