গণঅভ্যুত্থান ব্যক্তিগত বা দলীয় অর্জন নয়, প্রকৃত মালিক ১৮ কোটি জনগণ

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে গর্জে উঠলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৬ ২১:৫০

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা হঠাৎ ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নয়, এটি ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে পুরো জাতির বিস্ফোরিত প্রতিরোধ।

এই রক্তক্ষয়ী ও ঐতিহাসিক বিপ্লবের একক কোনো দাবিদার নেই, কোনো ব্যক্তি বা মঞ্চের একক কৃতিত্ব দেওয়ার সুযোগও নেই-এই গণঅভ্যুত্থানের আসল মালিক বাংলাদেশের ১৮ কোটি সাধারণ মানুষ।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ‘জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে আয়োজিত ফ্যাসিবাদ, জুলাই বিপ্লব ও আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এই মন্তব্য করেন।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

আবেগঘন ও জোরালো বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেদিন এ দেশের সাধারণ মানুষ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে একসুরে জানিয়ে দিয়েছিল-‘আর নয় কোনো নির্যাতন, আর নয় কোনো দুঃশাসন, আর নয় কোনো স্বৈরাচার কিংবা কোনো পার্শ্ববর্তী দেশের তাবেদারি। ঠিক সেদিনই জুলাই অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত ফলাফল নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, আন্দোলন, গুম, খুন এবং জুলাই-আগস্টে জীবন দেওয়া শহীদ ও পঙ্গুত্ব বরণকারী বীরদের ত্যাগকে ছোট করার অধিকার কারো নেই।

যদি কেউ এই গণঅভ্যুত্থানকে নিজের একক ক্রেডিট হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তবে তা হবে শহীদদের রক্ত এবং পুরো জাতির সঙ্গে চরম প্রতারণা ও অবিচার।

বিগত পৌনে দুই দশকের রাজনৈতিক বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, এই মুক্তি শুধু একক কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য অর্জিত হয়নি, এটি পুরো বাংলাদেশের সার্বিক মুক্তি।

বিগত ১৭ বছর যাবৎ এ দেশের মানুষের ঘাড়ে যে জগদ্দল পাথর চেপে বসেছিল, লাখ লাখ নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ এবং সাংবাদিকদের ওপর যে বরবর অত্যাচার চালানো হয়েছে, জুলাই-আগস্টের রাজপথের লড়াই ছিল সেই দীর্ঘস্থায়ী শোষণেরই একটি চূড়ান্ত বিস্ফোরণ।

ভারতে বসে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের চক্রান্ত করা পলাতক আসামিদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

বহু রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই বাংলাদেশ পেয়েছি। এই দেশে আর কারো প্রভুত্ব, তাবেদারি বা খবরদারি চলবে না। এখন আমাদের নীতি স্পষ্ট-‘সবার আগে বাংলাদেশ’।

বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে ভূমি প্রতিমন্ত্রী বলেন, কার কত ক্রেডিট-এ নিয়ে অনর্থক তর্কে মেতে উঠে স্বৈরাচারকে আর দুঃসাহস দেখানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না।

ডিসেম্বরে বা নভেম্বরে ফেরার যেসব ফাঁপা হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আমরা বলি-আপনারা ফিরে আসুন।

বিগত ১৭ বছর ধরে যে অগণিত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতন চালিয়েছেন, এ দেশের মাটিতে প্রচলিত আইনেই সেই সব অপরাধের মুখোমুখি হতে হবে।

কোনো ক্যাঙ্গারু কোর্ট নয়, নিরপেক্ষ বিচারেই অপরাধ প্রমাণিত হলে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হবে।

নিজ দেশের নেতাকর্মী ও পরিবার ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে যারা এখন বাইরে বসে হুঙ্কার দিচ্ছেন, তারা স্পষ্টতই বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ ও যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আরিফ।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নসরুল কাদির, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজ, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিক আহমদ ও সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তারসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি