পাসপোর্টে নাম-পরিচয় মায়ানমারের নাগরিকের, সঙ্গে ইউরোপের দেশ ডেনমার্কের ট্রাভেল ডকুমেন্ট, আর চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের ওমান।
বহুরূপী সাজে দেশ ছেড়ে পালানোর এমন এক নিখুঁত পরিকল্পনা ফাঁকা করে দিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদে’র ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ফুফাতো ভাই গোলাম সরওয়ার খান।
শনিবার দুপুরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের বহির্গমন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
রোববার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চাঞ্চল্যকর এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ।
জাল পরিচয় ও আন্তর্জাতিক নথির আড়ালে আত্মগোপন
সিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে অভিনব পথ বেছে নিয়েছিলেন গোলাম সরওয়ার।
তিনি নিজেকে মিয়ানমারের নাগরিক দাবি করে বিভিন্ন জাল নথিপত্র তৈরি করেন। শুধু তাই নয়, ওই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অত্যন্ত চতুরতার সাথে বাগিয়ে নেন ডেনমার্কের ট্রাভেল ডকুমেন্টও। এই ছদ্মবেশে ওমান পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বিমানবন্দরে উপস্থিত হন।
তবে বিমানবন্দরে চেকিংয়ের সময় তার দেওয়া নানা অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর তথ্যে সন্দেহ জাগে কর্তব্যরতদের। মুহূর্তের মধ্যেই সেই বার্তা পৌঁছায় গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। এরপর ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম কাঁপানো সাজ্জাদ বাহিনীর মূল ভরসা
পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গ্রেপ্তার গোলাম সারোয়ার খান মূলত পলাতক সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদে’র বিশ্বস্ত অনুসারী হিসেবে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করতেন।
চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে ও গোপনে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি সরাসরি সক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামে ঘটা একাধিক অপরাধের পেছনেও তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে জাল নথিতে বিশ্বভ্রমণের এই ছক শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেল বিমানবন্দের ডিবির তৎপরতায়।
তার গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সাজ্জাদ বাহিনীর একটি বড় নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

