চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ত্রাস বুইশ্যার দুই সহযোগী পুলিশের জালে

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৫৮

চট্টগ্রাম নগরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের ত্রাস, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি শহিদুল ইসলাম ওরফে ‘বুইশ্যা’র সাম্রাজ্যে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে পুলিশ।

দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে চান্দগাঁও থানার একটি বিশেষ চৌকস দল অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে তার অতি ঘনিষ্ঠ দুই সহযোগী সাকিব ও রাহাতকে।

রোববার (৯ আগস্ট) গভীর রাতে, যখন পুরো নগরী ঘুমিয়ে-ঠিক রাত আড়াইটার দিকে চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকায় এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) গণমাধ্যম শাখা থেকে সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়।

বলা হয়, সিএমপির গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হয় এই মিশন।

আভিযানিক দলে ছিলেন এসআই হৃদয় মাহমুদ লিটন, এএসআই অসিত নাথ এবং এএসআই শাহ আলমসহ পুলিশের একঝাঁক ক্ষিপ্র অফিসার।

তারা চারদিক থেকে এলাকা ঘিরে ফেলে আসামিদের পালানোর সব পথ বন্ধ করে দেন এবং ঘটনাস্থল থেকেই তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-ভোলা জেলার লালমোহন থানার চরভুতা এলাকার মো. ভুট্টোর ছেলে মো. নাঈম ইসলাম সাকিব (২৬) এবং চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার রোজ গার্ডেন কমিউনিটি সেন্টার এলাকার হামিদ হোসেনের ছেলে মো. রাহাত (২৪)।

পুলিশের রেকর্ড বুলেটিন অনুযায়ী, এই দুই যুবকের বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক গুরুতর অভিযোগ ও মামলা রয়েছে।

এর মধ্যে আসামি সাকিবের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন এবং পেনাল কোডের অধীনে দ্রুত বিচার ও ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে পূর্বে ৩টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, আসামি রাহাতের বিরুদ্ধে ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বহদ্দারহাট ও আশপাশের এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করাই ছিল এই চক্রটির মূল লক্ষ্য। তবে রাতের অভিযানে তা বানচাল হয়ে যায়।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও সংঘবদ্ধ হয়ে অপরাধ ঘটানোর অভিযোগে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।

শীর্ষ সন্ত্রাসী বুইশ্যার বাকি সহযোগীদের মূল উৎপাটন করতে চান্দগাঁও থানা পুলিশের এই কঠোর ও ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি