টেকসই শিল্পায়ন ও বৈশ্বিক বাজারের আস্থা অর্জনে বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন ‘তায়েবা ফ্যাশন লিমিটেড’ পরিদর্শনকালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একটি টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে বিনিয়োগ বান্ধব রাষ্ট্র গঠনের বিকল্প নেই।
পোশাক কারখানটিতে পৌঁছালে সুইডিশ রাষ্ট্রদূতকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান তায়েবা ফ্যাশন লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা রনজিৎ বড়ুয়া রক্তিম, চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভ বড়ুয়া, পরিচালক আবদুল্লাহ আল ফয়সাল ও সাইফুল ইসলামসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূতকে তায়েবা ফ্যাশনের উৎপাদন কার্যক্রম, পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, সামাজিক কমপ্লায়েন্স, শ্রমিকদের সার্বিক কল্যাণ এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করা হয়। এরপর নিকোলাস উইকস কারখানার বিভিন্ন উৎপাদন বিভাগ সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।
তিনি সরাসরি সুইং ও কাটিং লাইনে গিয়ে শ্রমিকদের মুখোমুখি হন এবং তাঁদের কর্মপরিবেশ, দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, কর্মঘণ্টা, সঠিক সময়ে মজুরি প্রাপ্তি, ছুটির সুবিধা ও অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা সম্পর্কে সরাসরি মতামত নেন।
কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, মর্যাদা, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত হচ্ছে কি না-সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বিশেষ খোঁজখবর নেন।
তায়েবা ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রদূতের সামনে তুলে ধরে শ্রমিকবান্ধব কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার জন্য তাঁদের নেওয়া বিভিন্ন যুগোপযোগী উদ্যোগ।
আন্তর্জাতিক বাজার রক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে কারখানাটি যেসব আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স বজায় রেখে চলেছে, তা তুলে ধরা হলে রাষ্ট্রদূত তায়েবা ফ্যাশনের সার্বিক কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক কল্যাণে গৃহীত পদক্ষেপে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তায়েবা ফ্যাশন লিমিটেড কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রদূতের এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অর্থবহ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক মানের একটি দায়িত্বশীল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাঁরা কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, টেকসই ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং বৈশ্বিক কমপ্লায়েন্স বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সুইডিশ রাষ্ট্রদূতের এই সফল পরিদর্শনের মাধ্যমে সুইডিশ মিশন ও তায়েবা ফ্যাশন লিমিটেডের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়া ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হলো বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

