বালুরমাঠে বুইশ্যা বাহিনীর অন্ধকার বৈঠক,অভিযানে ধরা খেল ৭ অপরাধী

উদ্ধার ৪ দেশীয় অস্ত্র

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৪৩

নগরীর শান্ত চাদর সরিয়ে ভোরের আলো ফুটতে শুরু করলেও চারপাশ যখন নিঝুম, ঠিক তখনই চান্দগাঁওয়ের পশ্চিম ফরিদার পাড়া বালুরমাঠের অন্ধকার কোণে চলছিল অপরাধ জগতের এক রহস্যময় বৈঠক।

খবর যায় পুলিশের কাছে। মুহূর্তের মধ্যেই ছক কষে শুরু হয় এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান। চতুর আস্তানা ঘিরে ফেলে চাটগাঁ পুলিশের চৌকস টিম।

পালানোর সুযোগ না দিয়ে ঘটনাস্থল থেকেই হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি শহিদুল ইসলাম ওরফে ‘বুইশ্যা’র ৭ বিশ্বস্ত সহযোগীকে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ভোর সাড়ে ৫টায় ফরিদার পাড়ার সাংবাদিক কলোনির পেছনের নির্জন ফাঁকা জায়গাটিতে পরিচালিত এই ঝটিকা অভিযানে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কটির বড় অংশ গুঁড়িয়ে যায়।

অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে একটি ধারালো রামদা, দুটি কুড়াল ও একটি আভিযানিক ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশি অভিযানের জালে ধরা পড়া ৭ অপরাধী হলো-মো. ইব্রাহিম ইদ্রিছ ওরফে ইদ্রিস (৩০), মো. আজম উদ্দিন (২১), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২৬), মো. রাকিব (২২), মো. হারুন (৩১), মো. মোমিন হোসেন ওরফে বাচ্চু (৩৫) এবং মো. রাসেল (২৮)।

পুলিশের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে গ্রেপ্তারদের চাঞ্চল্যকর অপরাধের ইতিহাস। বিশেষ করে এই চক্রের অন্যতম হোতা মো. ইব্রাহিম ইদ্রিছের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের এক দীর্ঘ খতিয়ান রয়েছে।

চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ থানায় ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা দায়ের হয়।

সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ জুলাই চান্দগাঁও থানাতেই ইদ্রিসের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি পৃথক মামলা হয়।

এছাড়া ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এর আগে ২০১৮ ও ২০২০ সালেও এই দুই থানায় তার বিরুদ্ধে একের পর এক অপরাধের রেকর্ড জমা হয়।

অপরাধ জগতে তার সক্রিয়তার প্রমাণ মেলে ২০২৫ সালের শেষ দিকেও-ওই বছরের আগস্ট, অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসজুড়ে চান্দগাঁও থানায় ইদ্রিসের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের চারটি নতুন মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল।

অন্যদিকে গ্রেপ্তার মো. রাকিবের বিরুদ্ধেও মাদক আইনের বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর পাঁচলাইশ মডেল থানায় এবং ২০২৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর চান্দগাঁও থানায় দায়ের হওয়া দুটি পৃথক মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে চান্দগাঁও থানার পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই সফল অভিযানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অস্ত্রধারী অপরাধীদের কাবু করা সম্ভব হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া সাতজনের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায় চান্দগাঁও থানায় একটি নতুন মামলা (১১ আগস্ট) রজু করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে কঠোর পাহারায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধী চক্রের মূল উপড়ে ফেলতে এই ধরনের জিরো-টলারেন্স অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি