চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় পরিচালিত অ্যাম্বুলেন্স সেবার মানোন্নয়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সেবার গুণগত মান যাচাইয়ের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় হাসপাতালের খেলার মাঠে আয়োজিত এ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
এ সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইতিহাসে এই প্রথম অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ফিটনেস পরীক্ষা করা হচ্ছে।
রোগী ও তাঁদের স্বজনদের নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স সেবাকে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হচ্ছে।
মেয়র বলেন, হাসপাতালে অবস্থানরত সব অ্যাম্বুলেন্সকে নির্ধারিত স্থানে পার্কিং করতে হবে। অনুমোদিত স্থানের বাইরে কোনো অ্যাম্বুলেন্স সড়কে অবস্থান করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে যেসব অ্যাম্বুলেন্স ফিটনেস পরীক্ষায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হবে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে বিশেষ স্টিকার দেওয়া হচ্ছে।
শুধু এই স্টিকারধারী অ্যাম্বুলেন্সগুলোই চমেক হাসপাতাল এলাকায় সেবা পরিচালনার অনুমতি পাবে। স্টিকারবিহীন কোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অবস্থান করতে পারবে না।
অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পুনর্নির্ধারণের বিষয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জ্বালানি তেল, টায়ার ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের বৃদ্ধি বিবেচনায় ভাড়া সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মালিকপক্ষ ৫০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে তা ৩০ শতাংশে সীমিত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি অ্যাম্বুলেন্স রোগী বা মরদেহ গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার পর ফেরার পথে সাধারণত খালি অবস্থায় ফিরে আসে। ফলে ভাড়া নির্ধারণে যাওয়া ও আসা—উভয় দিকের ব্যয় বিবেচনায় নিতে হয়।
নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর হলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে বিরোধ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মেয়র আরও বলেন, কেউ ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে চাইলে কিংবা মারকাযুল ইসলাম, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিনা মূল্যে বা স্বল্প খরচে সেবা দিলে তাদের কাজে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া যাবে না।
একই সঙ্গে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ প্রদর্শন এবং প্রয়োজনে বিশেষ ছাড় বা বিনা মূল্যে সেবা দেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শুধু নগরবাসীর নয়, বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের অন্যতম প্রধান চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র।
তাই হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকাকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, সেবাবান্ধব এবং দৃষ্টিনন্দন পরিবেশে গড়ে তুলতে সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, হাসপাতাল এলাকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সিটি কর্পোরেশন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী তিন শিফটে দায়িত্ব পালন করবেন।
আগামী এক মাসের মধ্যে হাসপাতাল এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মেয়র বলেন, নির্ধারিত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার তালিকা নিয়ে গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
কোথাও অস্বাভাবিক বা অযৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ হয়ে থাকলে তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করা।
রোগী ও স্বজনরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হয়ে প্রয়োজনীয় সেবা পান, সে জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিন আহমেদ, বিআরটিএর প্রতিনিধিরা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

