শ্রমিকের কোদালের কোপে বেরিয়ে এল ১২০ কোটির গুপ্তধন!

কাদা-মাটিতে মিলল সোনার খনি

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:১১

গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে হাতখরচ জোটাতে নির্মাণশ্রমিকের কাজ নিয়েছিলেন ১৮ বছরের তরুণ কোবে। বেলজিয়ামের ডেন্ডারমন্ড অঞ্চলের মাটি খুঁড়ে পয়োনিষ্কাশনের পাইপ বসানোর সময় হঠাৎই ধাতব কিছু একটার স্পর্শ পান তিনি।

ভেবেছিলেন জং ধরা সাধারণ এক ইউরোর কোনো মুদ্রা। কিন্তু কাদা সরিয়ে হাত বাড়াতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়-একটি নিখাদ সোনার বার! মুহূর্তেই সাধারণ নর্দমার নালা পরিণত হলো কল্পকাহিনীর গুপ্তধনের খনিতে।

ব্রাসেলস থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ভ্যান ল্যাঙ্গেনহোভেসত্রাত এলাকার এক সাবেক মদ তৈরির কারখানায় চলছিল সংস্কার কাজ। সেখানেই ঘটে এই অলৌকিক ঘটনা।

কাদা-মাটি ও পুরোনো ইটের স্তূপের ভেতর থেকে একে একে বেরিয়ে আসে বিপুল পরিমাণ সোনার মুদ্রা, সোনার টুকরো এবং নম্বরযুক্ত সোনার বার। সব মিলিয়ে যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৯০ লাখ ইউরো, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২০ কোটি টাকা।

দেওয়ালের আড়ালে শতাব্দী প্রাচীন রহস্য গবেষণায় দেখা গেছে, লুকানো এই অঢেল সম্পদ কোনো রূপকথার অংশ নয়। ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই মদ কারখানার মূল মালিক ছিলেন থিওফিলাস ভ্যান আস।

উনিশ শতকের শেষভাগে তৈরি তাঁর পুরোনো বাসভবনের বেজমেন্টের ইটের দেওয়ালের ভেতরে গোপনে ব্যাগে ভরে রাখা হয়েছিল এই ধনরত্ন। ১৯৭০ সালে কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ চার দশক ধরে এই সম্পদ দেওয়ালের আড়ালেই নিঃশব্দে জমা ছিল।

লোভকে জয় করে সততার দৃষ্টান্ত এত বিপুল অঙ্কের সম্পদ হাতের নাগালে পেয়েও প্রলোভনে পা দেননি কোবে ও তাঁর সহকর্মীরা। ঘটনার পরপরই তাঁরা খবর দেন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে।

তরুণ কোবে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কয়েকটি মুদ্রা হলে হয়তো অন্য কথা ছিল। কিন্তু এত বড় সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব নয়। সঠিক কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়াই আমরা দায়িত্ব মনে করেছি। বর্তমানে নিরাপত্তার স্বার্থে সম্পূর্ণ সোনা ব্রাসেলসে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বেলজিয়াম জুড়ে তীব্র কৌতূহল এদিকে এই বিপুল সম্পদের প্রকৃত দাবিদার কে, তা নিয়ে বেলজিয়ামের আইনে তৈরি হয়েছে আইনি জটিলতা

তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ: পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের কৌঁসুলি কার্যালয় খতিয়ে দেখছে এগুলো কোনো চুরি বা অপরাধমূলক কাজের অর্থ কি না।

মালিকানার দাবিদার: ভবনের বর্তমান মালিক সামাজিক কল্যাণ সংস্থা ‘সিএডব্লিউ উস্ট-ফ্ল্যান্ডার্ন’, কাজ করতে আসা নির্মাণশ্রমিক এবং সাবেক মালিক ভ্যানে আসা পরিবারের উত্তরাধিকারীরা-সব পক্ষই তৈরি হচ্ছে সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ের জন্য।

বেলজিয়ামের আইনানুযায়ী, গুপ্তধনের জন্য মূল মালিক বা তাঁর প্রতিনিধিদের দাবি জানানোর জন্য অন্তত ৫ বছরের সময় দিতে হয়।

তবে আইনি জটিলতা যেদিকেই যাক না কেন, কাদা-মাটি মেখে কোটি টাকার সম্পদ উন্মোচন করা তরুণ কোবে এখন শুধুই একটি পুরস্কারের প্রত্যাশায় প্রহর গুনছেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি