যদি রুখে দাঁড়াও, তুমি বাংলাদেশ-চট্টগ্রাম এসপির কণ্ঠে জুলাই বিপ্লবের নতুন সমীকরণ

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৮:২৭

‘যদি রুখে দাঁড়াও, তুমি বাংলাদেশ’-দেয়ালে আঁকা গ্রাফিতির এই পঙ্ক্তিমালা কেবল স্লোগান নয়, এটিই আসলে নতুন বাংলাদেশের মূল মন্ত্র।

গত জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলন কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর ছিল না, এটি ছিল দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের মুখে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের এক ঐতিহাসিক জাগরণ। আর এই সম্মিলিত ঐক্যে ফাটল ধরলে ক্ষতি হবে সবার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক আবেগঘন মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বিপিএম।

জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামে শহীদ হওয়া ওয়াসিম আকবর, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ওমর ফারুকসহ সব শহীদের স্মরণে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সকালে পবিত্র কুরআনখানি ও দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা।

বক্তব্যে আন্দোলনের পেছনের ইতিহাস ও গতিপথ পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। তিনি বলেন, “১৬ জুলাইয়ের আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কোটা সংস্কার আন্দোলন ভিন্ন মাত্রা পেয়েছিল।

এরপর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ফুঁসে ওঠে। ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকবর, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও ওমর ফারুক নিহত হওয়ার পর আন্দোলন আর কোনো সীমানায় আটকে থাকেনি।”

আন্দোলনের রূপান্তরের চিত্র টেনে তিনি আরও বলেন, শুরুতে দাবিটি কেবল কোটা সংস্কারের থাকলেও ধীরে ধীরে রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যায়।

২৩ জুলাইয়ের পর একপর্যায়ে আন্দোলন কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও ঢাকার ডিবি কার্যালয়ের ‘ভাতের হোটেল’ বিতর্ক আন্দোলনকে নতুন করে উস্কে দেয়।

১ আগস্ট থেকে আন্দোলন আবারও পূর্ণ শক্তিতে রাজপথে ফিরে আসে এবং তা আর কোটা সংস্কারে সীমাবদ্ধ না থেকে ‘এক দফা’র গণদাবিতে রূপ নেয়।

জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও তরুণদের ভাবনার প্রশংসা করে পুলিশ সুপার বলেন, আন্দোলনের পর দেয়ালে দেয়ালে তরুণদের আঁকা গ্রাফিতিগুলো সাধারণ কোনো চিত্রকর্ম নয়, এগুলো গবেষণার বিষয়।

বিশেষ করে ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ’ এবং ‘যদি রুখে দাঁড়াও, তুমি বাংলাদেশ’-এই দুটি লাইন নতুন প্রজন্মের অদম্য সাহস ও স্বাধীনচেতা মনের গভীরতম প্রতিফলন।

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তরুণদের এই ঐতিহাসিক ঐক্য ধরে রাখা এবং তাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করাই এখন সবার বড় দায়িত্ব।

স্মরণসভায় সংহতি প্রকাশ করে ও শহীদদের স্মৃতি চারণ করে আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক (সিএমইউজে) ও টাইম অব বাংলাদেশ পত্রিকার চট্টগ্রামের আবাসিক সম্পাদক সালে নোমান, প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ডেইজি মওদুদ, যুগ্ম সম্পাদক ও বাসসের বিশেষ প্রতিনিধি মিয়া মো. আরিফ, অর্থ সম্পাদক ও এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি আবুল হাসনাত, প্রেস ক্লাবের গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক মো. রুবেল খান, একাত্তর টেলিভিশনের ব্যুরো প্রধান ও কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী, দৈনিক ইনকিলাবের ডেপুটি ব্যুরো প্রধান ও কার্যকরী সদস্য রফিকুল ইসলাম সেলিম, এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার ও কার্যকরী সদস্য আরিচ আহমেদ শাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক চট্টগ্রামের সমন্বয়ক আরিফ মঈনুদ্দিন ও সাবেক সমন্বয়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী, কালের কণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ফারুক মনির, সকালবেলা পত্রিকার ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ আলী, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ইমরান এমি, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জোবাইর চৌধুরী এবং আমার দেশ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার এম কে মনির।

বক্তারা সকলেই একমত প্রকাশ করে বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণে কেনা এই নতুন বাংলাদেশে যেকোনো মূল্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা করতে হবে।

কোনো অপশক্তি যেন এই অর্জনকে নস্যাৎ করতে না পারে, সেজন্য ছাত্র-জনতার সেই ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি