বন্যাদুর্গতদের ঘর উপহার দিয়ে অর্থনৈতিক বিপ্লবের মহাপরিকল্পনা ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৩৫

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন-সকল ক্ষমতার মূল উৎস কোনো রাজপ্রাসাদ বা বিশেষ গোষ্ঠী নয়, বরং এ দেশের সাধারণ জনগণ।

বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতের উত্তাল তরঙ্গের সামনে দাঁড়িয়ে ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কর্মক্ষম করার এক মহাপরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে ১০০টি নতুন নির্মিত ঘরের চাবি ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়ার মাধ্যমে সরকার ও জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড: প্রান্তিক পরিবারের অর্থনৈতিক মুক্তির সনদ অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক ছিল বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সংক্রান্ত ঘোষণা।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সফলভাবে পাইলট প্রকল্প সম্পন্ন করার পর আগামী ১৬ আগস্ট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে এই কার্ড বিতরণ। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই দেশের প্রায় ৪১ লাখ প্রান্তিক পরিবারের মা-বোনদের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রথম পর্যায়ে বাঁশখালীর ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে, যা আগামী চার বছরের মধ্যে পুরো দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

মূল উদ্দেশ্য পরিষ্কার-ঘরের মা-বোনদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং সন্তানদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সুনিশ্চিত করা।

একই সাথে প্রান্তিক লবণচাষিসহ সকল কৃষকের অধিকার রক্ষায় আসছে ‘কৃষি কার্ড’।

উপকূলীয় লবণচাষিদের বহুদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিগগিরই লবণের সরকারি ন্যায্যমূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী।

উপকূলীয় অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের নতুন রোডম্যাপ উপকূলের অপার সম্ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ সমগ্র উপকূলীয় এলাকা আগামী দিনে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চট্টগ্রামজুড়ে শুরু হচ্ছে শিল্প বিপ্লব। চট্টগ্রামে চীনকে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের জন্য জমি দেওয়া হয়েছে, যেখানে শত শত কলকারখানা গড়ে উঠবে এবং স্থানীয় হাজার হাজার বেকার তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

শান্তি ও শৃঙ্খলার স্পষ্ট বার্তা উন্নয়ন ও বিদেশি বিনিয়োগের প্রথম শর্ত যে স্থিতিশীলতা, তা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

রাজনৈতিক বা সামাজিক অজুহাতে যেন কেউ দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হলে দিনশেষে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ।

উৎসবে মুখরিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।

নদী ও সমুদ্রঘেরা উপকূলের এই জনসভাটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি ছিল না, এটি হয়ে উঠেছে প্রান্তিক মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার এক অনন্য অঙ্গীকার।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি