চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর সদরঘাটে নোঙর করে রাখা একটি মাছ ধরার ট্রলারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ছয়জনের মধ্যে তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
তাদের শরীরের শতভাগ পুড়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট সাম্পানঘাট এলাকায় নোঙর করা ‘এফভি দেশ’ নামের ট্রলারটিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন
আগুনের তীব্রতায় পাশেই থাকা ‘এফবি ডিজনি’ ট্রলারের তিন কর্মীও দগ্ধ হন। তবে তাদের আঘাত তুলনামূলকভাবে কম।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আশিকুজ্জামান তামিম, রুবেল ও শাহ আলমের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে। তাদের অবস্থাকে অত্যন্ত সংকটাপন্ন উল্লেখ করে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও জাহাজ কর্তৃপক্ষ জানায়, মাছ ধরা শেষে সোমবার দুপুরে ট্রলার দুটি সদরঘাটে নোঙর করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে হঠাৎ ‘এফভি দেশ’ ট্রলারের ইঞ্জিন কক্ষে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।
এরপর মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো ট্রলারে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জেনারেটর থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস খালেদ জানান, ঢাকায় পাঠানো তিনজনের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে এবং তাদের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
অন্য তিনজনের শরীরে তুলনামূলকভাবে হালকা দগ্ধের পাশাপাশি শ্বাসনালীতে ধোঁয়ার প্রভাব রয়েছে। তাদের ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ট্রলারের ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ জানান, অগ্নিকাণ্ডে ট্রলারটির প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আহতদের ঢাকায় নেওয়ার পথে বিকেলে সীতাকুণ্ডে সড়ক অবরোধের কারণে রোগীবাহী গাড়িটি কিছু সময়ের জন্য বিড়ম্বনায় পড়ে।
এ ঘটনায় ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ বাদী হয়ে সদরঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

