লোহাগাড়া প্রতিনিধি : সম্প্রতি তছনছ হয়ে যাওয়া ফসলের মাঠ আবার সবুজে ভরিয়ে তোলার স্বপ্ন দেখছিলেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চরম্বা ইউনিয়নের ৩৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক।
তবে তাঁদের সেই স্বপ্ন আর পুনর্বাসনের সরকারি সাহায্য আটকে ছিল একটি মাদ্রাসার বন্ধ কক্ষে।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত বোরো ধানের বীজ কৃষকদের হাতে না দিয়ে মাদ্রাসায় জমিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক নেতার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে খবর পেয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বায়েজিদ বিন আখন্দ চরম্বা জামেউল উলুম মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে এই বীজধান জব্দ করেন।
অভিযোগের তির চরম্বা ইউনিয়নের জামায়াতের আমীর ও চরম্বা জামেউল উলুম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার শামসুল আলম হেলালীর দিকে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, সাম্প্রতিক বন্যায় সর্বস্ব হারানো কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারিভাবে যে বোরো ধানের বীজধান দেওয়া হয়েছিল, তা বিতরণের দায়িত্ব পেয়েছিলেন শামসুল আলম হেলালী।
কিন্তু তালিকাভুক্ত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাড়ি বা মাঠে না পৌঁছে সেই ধান চলে যায় মাদ্রাসার একটি কক্ষে।
বিষয়টি জানাজানি হলে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে। পরে খবর পেয়ে ইউএনও সেখানে উপস্থিত হয়ে কক্ষে স্তূপ করে রাখা বীজধানের সত্যতা পান।
তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ধানগুলো জব্দ করেন এবং রাতেই সব ধান প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর কড়া নির্দেশ দেন।
ধান বিতরণ না করে মাদ্রাসায় জমিয়ে রাখার কারণ জানতে চাইলে জামায়াত নেতা ও ভারপ্রাপ্ত সুপার শামসুল আলম হেলালী বলেন, ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে সময়মতো কৃষকদের কাছে ধান হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশ পেয়ে রাতেই ধানগুলো সংশ্লিষ্ট কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি বীজ বা সহায়তা কোনো ব্যক্তিগত কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জমিয়ে রাখার সুযোগ নেই।
লোহাগাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলাম বলেন, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ৫ কেজি করে বোরো ধানের বীজ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
চরম্বা ইউনিয়নের ৩৪ জন কৃষকের ১৭০ কেজি বীজ এভাবে এক জায়গায় মাদ্রাসায় রেখে দেওয়ার খবর আমরা পাই। সরকারি আইন অনুযায়ী এভাবে কোনো সহায়তা আটকে বা জমিয়ে রাখার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. বায়েজিদ-বিন-আখন্দ জানান, ভিন্ন একটি কাজে পরিদর্শনে গিয়ে মাদ্রাসার একটি কক্ষে ধানগুলো দেখতে পাই।
ঘটনাটি দেখার পর আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ওই বীজধান বিতরণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি/রায়হান

